তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : ছাত্রীদের নিয়ে অব্যাহত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে ঘিরে বিক্ষোভের পর  অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্ক্রম থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক।

শ্রেনীকক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও ক্লাস শেষে খাতা দেখতে একা যেতে বলা সহ বিভিন্ন অভিযোগে এ দিন বেলা সাড়ে ১১ টায় টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শান্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রীরা।

খবর পেয়ে পুলিশ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থলে ছুটে যান । তাদের আশ্বাসে ঘন্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণীকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা। এসময় অভিযুক্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি উচ্চ বালিকা কক্ষে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ফারুক শ্রেনীকক্ষে বয়ঃসন্ধিকাল, ওড়না ছাড়া ভালো লাগে, পালস মাপার জন্য বোরকা- জামা খুলতে বলা সহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর আগেও ছাত্রীদের নিয়ে খারাপ কথা বলার জন্য অভিভাবকদের কাছে মাফ চেয়েছেন। আমরা তার দ্রুত শাস্তি ও বদলির দাবি জানাই।

একই শ্রেনীর জ্যোতি সরকার বলেন ,ফারুক স্যার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ভালোলাগা-খারাপলাগা সম্পর্কে বলে অশালীন মন্তব্য করতেন। বিদ্যালয় শেষে রাস্তায় হাঁটাচলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। তার শাস্তির দাবি জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী ফারিয়া বলেন, শিক্ষক ফারুক শ্রেনীকক্ষে মেয়েদের "সোনা, ময়না, পাখি, চুলখোলা, লিপস্টিক" বলে সম্বোধন করেন। এছাড়া মেয়েদের পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করেন। পড়ানোর সময় আবাসিক হোটেল সম্পর্কেও মেয়েদের বলেন। আর অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তার মতো শিক্ষক আমরা চাইনা।

একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী লুনা, মারিয়াম জামান তোহা, সাদিয়া, মোহনা, আশামনি সহ আরো অনেকে বলেন, শিক্ষক ফারুক ছাত্রীদের সাথে যেসব ভাষা ব্যবহার করে সেগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ আমরা তো তার মেয়ের মতো। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আরো অনেক শিক্ষক আছে, তারা এরকম তো ব্যবহার করে না। যেসব ভাষা সে ব্যবহার করে এগুলো মুখে বলা যায় না। তাই আমরা তার দ্রুত শাস্তি ও বদলির দাবি জানাই।

এব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে ইউএনও স্যারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রেণীকক্ষে ফেরে। তখন ছাত্রীদের সাথে কথা বলে শিক্ষক ফারুকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

টুঙ্গিপাড়া ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্ক্রম থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে পরবর্ী বস্থা গ্রহণ করা হবে।

(টিবি/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬)