'মিথ্যে মামলা' ও 'অপপ্রচার' দাবি করে সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগীর
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সাদ্দাম হোসেন/আব্দুর রাজ্জাক গংদের ওপর হামলা চালিয়ে একজনের পায়ের রগ কেটে এবং একাধিক আহত করে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর শহরের একটি মিডিয়া হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করেন ভুক্তভোগী সরিষাবাড়ির ভাটারা ইউপির কৃষ্ণপুর বেপারিপাড়ার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন।
তিনি জানান, হামলা-মারধর, মামলা করেও থেমে থাকেনি সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামের মৎস্যজীবী শফিকুল ইসলাম গংরা। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মানববন্ধনের মাধ্যমেও সাদ্দাম হোসেন/আব্দুর রাজ্জাক গংদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সাথে হামলায় একাধিক আহতের ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য কারণে মামলা নিচ্ছে না সরিষাবাড়ি থানা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আমরা কৃষ্ণপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-১১০, দাগ নং-১২২,১২৩, জমির পরিমাণ-৬৩ শতাংশ জমির মালিক। ১৯৪২ সাল থেকে দাখিলা মূলে আরওআর ও বিআরএস এবং খাজনা-খারিজসহ আমাদের নামেই রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই জায়গা আমরা ভোগদখল করে আসছি। বিগত সরকারের সময়ে জামালপুর সদরের মেষ্টা ইউনিয়নের বীরমল্লিকপুর ফুলারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে শফিকুল ইসলাম গংরা আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী নিয়ে রাতের আধারে জোরপূর্বক ওই জমি দখল করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মুরুব্বি ও মাতাব্বার নিয়ে বসার কথা থাকলেও তারা বসতে রাজি হন নি। এছাড়া ওই ভূমিদস্যু শফিকুল গংরা আমাদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দেন। এর আগেই শফিকুল ইসলাম বিআরএস রেকর্ড ভাঙার মামলা করে একতরফা ডিগ্রী কৌশলে আদায় করেন। যা বিবাদী পক্ষ আমরা কোনোরকম নোটিশ পাই নি। আমরা তাদের একতরফা ডিগ্রী সুপ্রিমকোর্টে রিট করলে রায় স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। যার রিট নং-৫৩৩৮/২০২৬ইং।
সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, আমরা জমিতে গেলে আমার ভাতিজা আসাদুলকে শফিকুল গংরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের রগ কেটে দেন। পরবর্তীতে আসাদুলকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। বর্তমানে ও চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলায় আমি বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হই। এ ঘটনায় শফিকুল গং নিজেরাই পূর্বপরিকল্পিভাবে বিরোধকৃত ভূমিতে বসতঘর উঠিয়ে নিজেররাই আগুন ধরিয়ে দেন এবং আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া তারা মিথ্যা অপপ্রচার করে একটি মানববন্ধন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এবং আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬)
