রাজাপুরে সরকারি খাল ভরাট করে দখল
ইউএনওর তদন্তে সত্যতা, সীমানা নির্ধারণ—পুনঃখননের দাবি এলাকাবাসীর
এমদাদুল হক স্বপন, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল এবং সেখানে বসতবাড়ি ও বাগান গড়ে তোলার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিন তদন্ত শেষে খালের সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দখলমুক্ত করে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সাতুরিয়া মৌজায় নকশা ও সার্ভেয়ার নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজিব। পরিমাপ শেষে সরকারি খালের সীমানা চিহ্নিত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, সাতুরিয়া ইউনিয়নের জে এল নম্বর-১-এর সাতুরিয়া মৌজায় বি.এস. জরিপ ও রেকর্ডীয় ৩৮১৩ ও ৩৮৩২ নম্বর দাগের সরকারি খালের পশ্চিমাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা হয়েছে। ভরাট করা জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়ে বাগান ও বসতবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে গত ২৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খন্দকার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, খালের পশ্চিমাংশ স্থানীয় মো. মোস্তফা খলিফার বাড়ির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খলিফা বাড়ির নুরাণী মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে থাকা খালের অংশও মাটি দিয়ে ভরাট করে ভোগদখল করা হচ্ছে।
অভিযোগের পর সরেজমিন তদন্তে গিয়ে খালের অস্তিত্ব ও সীমানা যাচাই করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভরাটের কারণে খালটির স্বাভাবিক আকৃতি বর্তমানে নেই। পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খালটি দীর্ঘদিন ভরাট ও দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা ও জোয়ারের সময়ে পানি চলাচল ব্যাহত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খালটি পুনঃখনন করা হলে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে, কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং চাষাবাদে সুবিধা হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী সরকারি খালের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, খালটি শুধু একটি জলপথ নয়; স্থানীয় কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দ্রুত খনন করা হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত জনভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
(এএইচএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬)
