উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহগোগিতা
লৌহজংয়ে অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন নারী জন্ম দিলেন কণ্যা সন্তান
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : এক অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) নারী এবার এক কণ্যা সন্তানের মা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার চন্দ্রেরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লাইফ এইড হাসপাতালে ওই পাগলী এই কণ্যা সন্তান প্রসব করেন। মা ও সন্তান উভয়ই সুস্থ্য আছেন। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু খবর পেয়ে ওই নবজাতক ও তার মায়ের খোঁজ খবর নিতে ওই হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাদের চিকিৎসা ও আনুসঙ্গিক ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী বেশ কিছুদিন ধরে চন্দ্রেরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে হঠাৎ প্রসব বেদনা উঠলে স্থানীয় লোকজন তাকে নিকস্থ লাইফ এইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি সন্তান প্রসব করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ পাগলী মেয়েটাকে এদিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে মেয়েটি যে গর্ভবতী এ বিষয়টি প্রথমে তার নজরে আসে। পরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি নজরদারি করতে জানিয়ে রাখেন। শুক্রবার সকালে মেয়েটি বাচ্চা প্রসব করলে বিষয়টি পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেসময় তার সাথে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বাচ্চাটির জন্য গুড়ো দুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র সরাবরাহ করা হয়।
পরে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর স্থানীয় লাইফ এইড হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়। বর্তমানে বাচ্চা ও মা সুস্থ রয়েছে।
ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মা ও নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেয়েটির অভিভাবকদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণে যেভাবে হস্তান্তর করলে ভালো হয় সেভাবে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় ওই নারী ও নবজাতকের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। তারা মা ও নবজাতকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
(আরএম/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬)
