মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : দেশজুড়ে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের দিনেও দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বারে থাকা পরিত্যক্ত ভূতুড়ে ভবনটি। একদিকে সরকারি নানা আয়োজনে হাসপাতাল ও উপজেলা চত্বরে ঝাড়– হাতে চলছে পরিচ্ছন্নতার আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে হাসপাতালের মূল ফটকের ঠিক ডান পাশেই যুগের পর যুগ ধরে গড়ে ওঠা এডিস মশার ‘উৎপাদন কারখানা’ ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা নিয়ে ভাবছে না কোনো কর্তৃপক্ষই।

গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর তিন মাসব্যাপী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লৌহজং উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, রেড ক্রস, বিএনসিসি, গার্লস গাইডসহ সর্বস্তরের জনগণ এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

তবে এই ঝকঝকে অভিযানের আড়ালেই ঢাকা পড়ে গেছে এক দৃঢ় বাস্তবতা। উপজেলার সর্বপ্রথম যে ভবনটিতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো, আধা-পাকা ও টিনশেডের সেই কক্ষে আজ আলো পৌঁছায় না। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরের পরিবেশ সুন্দর হলেও মূল ফটকে ঢুকতেই চোখ পড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুুপ আর ভীতিকর এক পরিবেশের দিকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও ঘুটঘুট অন্ধকার থাকা এই ভবনটি কেবল মশা ও রোগের জীবাণু সৃষ্টির কেন্দ্রই নয়, সন্ধ্যার পর রূপ নেয় মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এত বড় একটি মশার আতুড়ঘর অক্ষত রেখে তিন মাসের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, যুগের পর যুগ ধরে পড়ে থাকা এই পরিত্যক্ত কাঠামো অপসারণ করে অবিলম্বে নতুন কোনো স্থাপনা বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে, সরকারের কোটি টাকার সচেতনতামূলক প্রচারণাও আড়ালে তলিয়ে যাবে।

পপ্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ সূচনা করা হলেও এই পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি, লোকদেখানো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অবিলম্বে এই ভূতুড়ে ভবন অপসারণ করে ডেঙ্গুমুক্ত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, ভবনটি ইতিমধ্যে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে যখন দিক নির্দেশণা পাওয়া যাবে তখনই এটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। আপতত এটি ভেঙে বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব না।

(পিআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬)