‘ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই’
স্টাফ রিপোর্টার : গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার ঋণের কর মওকুফের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ বার্তা আছে কি না।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, খেয়াল করবেন, এটা আদালতের ব্যাপার এবং একটু মিসপারসেপশন ছিল। এটা এখন ডিটেইলড অনেকের সামনে এসেছে যে, এই কর মওকুফের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল, সেই রায়টা কেন তখন কার্যকর হয় নাই, ইন্টারিমের সময় ছিল, এখন তাদেরকে দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এটা আদালতে আছে, হাইকোর্টের রায় হয়েছে, তাদেরকে ওই করটা দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই করটা দিতে চান নাই। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কিছু করার নেই, কারণ এখন যে মামলা তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা সাসটেইন করতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে।
এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের কোনো রকম ইনভলভমেন্ট নেই, কারণ ড. ইউনূস বা আর কেউ কারো প্রতি কোনো অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নাই।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটা যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপার, আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা দেখতে চাই অনেকে আমরা বলি না যে, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারো ফাঁসির রায় দেখে আসলে ভীষণ খুশি হওয়ার চাইতে যে জিনিসটা ইম্পর্টেন্ট আমার কাছে মনে হয়, সেটা হচ্ছে আমরা আমাদের সমাজের ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত করতে পারছি কি না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম- আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই, সেটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে চাই।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬)
