ফরিদপুরে হাসান শেখ হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি: ফরিদপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাসান শেখ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে হ ত্যা র ঘটনায় নিহতের স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের এ রায়ে হাসান শেখকে হত্যার পর তার লাশ গুমের ঘটনায় ওই চারজনের প্রত্যেককে আরও সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে, আদালত আসামিদের দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি তাদের পূর্বের হাজতবাসের সময় কারাদণ্ডের মোট মেয়াদ থেকে বাদ যাবে মর্মে তাঁর আদেশে উল্লেখ করেছেন।
আজ বুধবা দুপুরের দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। হত্যার শিকার হাসান শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম পলাতক থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদেরকে কড়া পুলিশ প্রহরায় পুনরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হন হাসান শেখ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের চারদিন পর ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের আজিজ খানের আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ ১৪ মে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে করিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার এসআই মিরাজুর রহমান ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম, শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের পর এ মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী (পিপি) এসএম আজিজুর রহমান (বিকু) জানান, স্ত্রীর আয় ও পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে হাসান শেখকে হত্যা করা হয়। আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রাষে সরকারি এ আইনজীবী মোটামুটি সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিহতের পরিবার আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) কামনা করায় তারা পুরোপুরি খুশি নন বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এদিকে,এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা ভাবছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির পরিবার। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা ওই আসামির স্বজনেরা।
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬)
