মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে পায়ে টিউমারের অপারেশন করাতে গিয়ে রগ কেটে ফেলার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছোট একটি অপরাবেশন করা গিয়ে একই দিন দুইদফায় তিনঘন্টার বেশি সময় লেগেছে বলে অভিযোগে বলা হয়। আজ শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পায়ে ব্যাথা নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চর কালিকাপুর গ্রামের আনু বেগম (৫৫) শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুমের কাছে যান। ডাক্তারের দেয়া ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরেসহ বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা করেন। পরে তাকে জানানো হয় পায়ে টিউমার আছে তাই অপারেশন করতে হবে। পরে ঐদিন সকালে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর তার পায়ের গোড়ালিতে টিউমার অপারশেন শুরু করেন ওই চিকিৎসক। দেড়ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। এ সময় পায়ের রগ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের। এসময় রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন প্রতিষ্ঠানের অন্য আরেকজন চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন চয়নের নেতৃত্বে ফের অস্ত্রোপচার চালানো হয়। তিনঘন্টা পর রোগীকে দেয়া হয় বেডে।

এদিকে এরইমধ্যে ওষুধপত্রসহ অসহায় ওই এ নারীর চিকিৎসা খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। হাসপাতালের বিল করা হয়েছে আরো ৭০ হাজার টাকা। যার ব্যয় বহন করতে ভুক্তভোগী আনু বেগমের স্বামী কৃষক বুলু খানের কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী আনু বেগমের ছেলে বাবলু খান বলেন, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে আমার মায়ের এই ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম এর বিচার চাই।

ভুক্তভোগী আনু বেগম বলেন, আমি পায়ে হেটে ক্লিনিকে এসেছি। কিন্তু ডাক্তার না বুঝেই অপারেশন করে পায়ের রগ কেটে ফেলছে। তিনঘন্টার বেশি অপারেশন করতে সময় লেগেছে। ভবিষ্যতে আমি ভালোভাবে হাঁটতে পারবো কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, পরীক্ষানিরীক্ষার রিপোর্টে ভুল থাকায় এমন ঘটনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্তের পরিবর্তণ আসলে যৌথ চিকিৎসকের সমন্বয়ে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করানো হয়। এতে রোগীর তেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। রোগী শীঘ্রই সুস্থ হয়ে যাবেন।

মাদারীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদিন কমল বলেন, পায়ে টিউমার অপারেশন করাতে গিয়ে এমন ঘটনার দায় ভার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না। তাই এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান মাসুম ঢাকার একটি হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের রোগী দেখেন।

(এএসএ/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬)