বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১০, স্বর্ণালংকার উদ্ধার
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় চোরচক্রের ৩ সদস্য ও চোরাই অলংকার কেনার অভিযোগে ২ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির ঘটনায় আগে থেকে গ্রেপ্তার আরও ৫ জন কারাগারে রয়েছে। এ নিয়ে ১০ জনে পৌঁছালো গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আজ রবিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পিবিআই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় ৩০ জুন সন্ধ্যায় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ভবনে বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ভবনের তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্রের সদস্যরা। ঘটনার পরের দিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশাল (২১) কে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় চোরচক্রের আরেক সদস্য ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়া (২৪)কে। চোরচক্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেন (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩.১৯ গ্রাম স্বর্ণ, রূপান্তর করা স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রূপার অলংকার জব্দ করে পুলিশ।
এদিকে, চুরির ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার কয়েকদিন পর তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান (৫০), মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২) ও সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম (৩০)। এরপর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তারা এখনো কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রুপম কুমার সরকার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে পুলিশ যে ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল তাদের জবানবন্দির সাথে কললিস্ট চেক করে কোনো মিল পাওয়া যায় নি। আগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৫ জন চুরির ঘটনার সাথে জড়িত নয়।
এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, দায়িত্ব পেয়ে রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে পিবিআইয়ের তদন্ত দল। নিরলস চেষ্টার পর আসামিদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চুরির সাথে জড়িত তিনজন আসামি ইতোমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় দয়ের হওয়া মামলায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর মামলাটির তদন্তভার পায়।
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬)
