জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির
স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী)-এর চেয়ারম্যান হাসরত খান ভাসানী।
আম সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, সেই সময়ে একসঙ্গে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।” সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
হাসরত খান ভাসানী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু গাড়ির মালিক বা তেল ব্যবহারকারীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী, কৃষক, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির কারণে বিপিসির ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে—সরকারের এই যুক্তি আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু বিপিসির লোকসান কমানোর দায় কেন বারবার জনগণের ঘাড়ে চাপানো হবে—এই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান বলেন, “রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অপচয়, অনিয়ম ও অদক্ষতার বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো জনকল্যাণমূলক অর্থনীতি হতে পারে না।” তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিপিসির আয়-ব্যয়, জ্বালানি আমদানি ব্যয়, মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি এবং জ্বালানি খাতে সরকারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান।
হাসরত খান ভাসানী আরও বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভর রেখে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস, কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়নে কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির নীতি চলতে দেওয়া যায় না। ন্যাপ-ভাসানী জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী যেকোনো অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।”
(পিআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬)
