হারানো ঐতিহ্য ফিরল বেতনায়, ২৫ বছর পর নৌকা বাইচ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দীর্ঘ ২৫ বছর পর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর সুপারিঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন বেতনা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শরতের সোনাঝরা রোদ আর নীল আকাশের নিচে সোমবার বিকেলে বেতনা নদী ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতির সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দুপুর ২টায় শুরু হয়। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিযোগিতার সূচনা হয় হাজীখালী গেট এলাকা থেকে। প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে ধুলিহর সুপারিঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মোট ছয়টি নৌকা বাইচ দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে আশাশুনির দাঁদপুর, মহিষাডাঙ্গার দুটি দল, বামনডাঙা, তেঁতুলডাঙা ও টেংরাখালি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় দুটি দল যৌথভাবে প্রথম এবং দুটি দল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে অংশগ্রহণকারী চারটি দলকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম বাবু, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহিন, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান, সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মমতাজুর রহমান চন্দন, সাধারণ সম্পাদক জে.এম. দুদায়েভ, মাসুদ খান অর্ঘ্য, তাজুল ইসলাম রিপন, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খুরশিদ আলম, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন আফিল, ধুলিহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন মিঠু, ব্রহ্মরাজপুর বিএনপির সভাপতি এমএ হাসান, সাবেক সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নৌকা বাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই বেতনা নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়। নদীর পাড়, সড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন রোমাঞ্চকর এ প্রতিযোগিতা।
আয়োজকরা জানান, গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।
(আরকে/এএস/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)
