একে আজাদ, রাজবাড়ী : কিস্তিতে পণ্য কেনা গ্রাহকের মৃত্যুতে অবশিষ্ট কিস্তি মওকুফ করেছে ওয়ালটন প্লাজা। একই সঙ্গে দিয়েছে আর্থিক সহায়তা। প্রতিষ্ঠানটির ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’র আওতায় নগদ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৃত  মো: হালিম সরদারের পরিবার।

আজ মঙ্গলবার সকালে পাংশা পৌর শহরের ওয়ালটন প্লাজায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে মৃত গ্রাহকের স্ত্রী ও সন্তানের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন ওয়ালটন প্লাজা কুষ্টিয়া এরিয়ার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো: সাইদূর রহমান। এ সময় রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো: মাহবুবুল আলম, পাংশা শাখার ম্যানেজার সঞ্জিত গুহ, কুমারখালি শাখার ম্যানেজার মো: মনিরুল ইসলাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে,চলতি বছরে কৃষক মো: হালিম সরদার পাংশা শহরের ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে ১৭ হাজার টাকার একটি পণ্য ক্রয় করেছিলেন। তিনি ৭ হাজার ৭শ টাকা বাকি থাকতে স্ট্রোকে মারা যান।এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ অনুযায়ী মৃত গ্রাহকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়ালটন প্লাজা। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

মৃত্যুবরণ করা গ্রাহকের ছেলে সোহান সরদার বলেন, হঠাৎ স্ট্রোক করে আমার আব্বা মারা যায়। আমি জানতাম ওয়ালটন প্লাজা থেকে আমার আব্বা একটা এলইডি টেলিভিশন কিনেছিল। সেখানে কিছু টাকা বাকি আছে। আমি ওয়ালটন শোরুম ফোন করেছিলাম বকেয়া টাকার পরিমাণ জানতে। তবে তারা আমার কাছে বিস্তারিত জেনে আমাকে শোরুমে যেতে বলে। তারপর তারা জানালেন আমাদের বকেয়া টাকা আর দিতে হবে না, এমনকি আমাদের নগদ অর্থ সহয়তা করবে। আজ ডেকে এনে আমাদের টাকা দিছে।

পাংশা ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার সঞ্জিত গুহ বলেন, কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী কিস্তির মেয়াদের মধ্যে মূল ক্রেতার মৃত্যু হলে তার নমিনিকে পণ্যের দামের ওপর ভিত্তি করে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বাকি কিস্তি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়। এই নিয়মের আওতায় মো: হালিম সরদারের বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয় এবং তার নমিনি ও স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মো: মাহবুবুল আলম বলেন, আর্থিক সহায়তা ইনস্ট্যান্ট প্রক্রিয়া। তবে আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা রয়েছে। আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য জরুরী কল সেন্টারের নাম্বার দিয়ে থাকি। সেখানে ২৪ ঘন্টা একজন ফিজিশিয়ান ডক্টর গ্রাহকদের মেডিকেল পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মৃত গ্রাহকের পরিবারে বেকার কেউ থাকলে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করছে ওয়ালটন।

এরিয়ার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো: সাইদূর রহমান বলেন, সারাদেশে সাত হাজারের অধিক গ্রাহক ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনেন। আমাদের নিজস্ব প্রায় ৭শ আউটলেট রয়েছে, সেখান থেকে কিস্তি সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়াও কোন ক্রেতা কিংবা নমিনি মারা গেলে সম্পূর্ণ কিস্তি মওকুফ করা হয় এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।

(একে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)