একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে মিনি তেল নিষ্কাশন যন্ত্র, অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন এবং দুস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের ইনোভেশন প্রতিযোগিতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ৩০ জন কৃষকের হাতে মিনি তেল নিষ্কাশন যন্ত্র তুলে দেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন।

‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চরদুর্লভদিয়া গ্রামের এসব কৃষককে যন্ত্রগুলো দেওয়া হয়। এ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত তেলবীজ থেকে সহজে তেল উৎপাদন করতে পারবেন। এতে সময় ও উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি তেল ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ জন অসহায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং ৮ জন দুস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সেলাই মেশিনের মাধ্যমে অসহায় নারীরা আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। হুইলচেয়ার পাওয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন চলাচলেও কিছুটা সুবিধা হবে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ইনোভেশন প্রতিযোগিতায় কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট প্রতিযোগিতায় এয়াকুব আলী চৌধুরী বিদ্যাপীঠের কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, জনসংখ্যাকে জনশক্তি ও জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীকে একই পেশায় যাওয়ার চিন্তা না করে তাদের নিজস্ব প্রতিভা ও আগ্রহ চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা যুক্ত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের শুধু বইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি, কুইজ, বিতর্ক, গ্রুপ স্টাডি ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বর্তমান এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানগুলোতে পাংশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহারাম হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

(একে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)