স্টাফ রিপোর্টার : চার দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে চার দিনের রিমান্ডে তার কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) তেজগাঁও জোনের কর্মকর্তারা জানান, সংসদ সদস্যকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। সংসারিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক নানা বিষয় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

এর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের (এমপি হোস্টেল) একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এমপি গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, জুলাই মাসে তার সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।

অবশ্য জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ এবং পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার অভিযোগে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পরও তিনি স্বতন্ত্র বা দলীয় পদবিহীনভাবে তার সংসদ সদস্য পদ ধরে রেখেছিলেন।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬)