গ্যাসের চাপ কম, ইউরিয়া উৎপাদনে যেতে পারেনি যমুনা সার কারখানা
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : গ্যাসের অভাবে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে বন্ধ যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপস্বল্পতার কারণে উৎপাদনে ফিরতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাসবিল পরিশোধ করে উৎপাদনে ফেরার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হলেও প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে এ সার কারখানা।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে অকেজো যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সমস্যা নিরসন করে উৎপাদনে যাবার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পরিশোধ করা হয়েছে গ্যাসবিলও। কিন্তু উৎপাদনে যেতে যে গ্যাসের চাপের প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছেনা। নিয়মিত উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস প্রয়োজন। অথচ পাওয়া যাচ্ছে ২২ থেকে ২৫ ঘটফুট গ্যাস।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটি গ্যাসের অভাবে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর চলতি মাসে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। শুরুতে গ্যাসের চাপ থাকলেও কয়েকদিন পর চাপ প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেলে উৎপাদনে ফিরতে পারেনি কারখানাটি। ফলে দেশে ইউরিয়া সারের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সহসাই আর স্বস্তি মিলছে না!
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানা (JFCL) স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতায় থাকলে দেশের মোট ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটাতে পারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১,৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া। এ কারখানার উৎপাদিত সার বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং উত্তরাঞ্চলের অন্তত ২০-২১টি জেলার চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় চাহিদা নিয়ন্ত্রণে পালন করে কার্যকরী ভূমিকা। তবে তীব্র গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই সাময়িকভাবে কিংবা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে কারখানাটির উৎপাদন।
এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার জিএম (অপারেশন) ফজলুল হক বলেন, যমুনা সার কারখানার নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখতে প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহের পর থেকে গ্যাসের চাপ এতো কম যে, তা দিয়ে উৎপাদনে যাওয়া যাচ্ছেনা। উৎপাদনের জন্য শুধু গ্যাসসংযোগ থাকলেই হবে না, প্রয়োজনীয় চাপ ও ধারাবাহিক সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাসের চাপস্বল্পতার সমস্যা কেটে গেলে যেকোনো সময় আমরা উৎপাদনে যেতে পারব।’
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬)
