রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মো. রওশন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত রওশন শেখ পাটকেলঘাটা থানার গণেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায় প্রদানকালে আসামী কাঠগড়ায় হাজির ছিল।

মামলার বিবরনে জানা যায় , ২০২৫ সালের ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে গণেশপুর বাজারের নিজের চায়ের দোকানের পিছনে ওই কিশোরীকে খাবার দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় রওশান শেখ।

পরে তাকে মুরগির খামারের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা পরদিন বাদি হয়ে রওশান শেখের নাম উল্লেখ করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ (১) ধারায় পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামী রওশান শেখকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে আসামী রওশান শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে এজাহারভুক্ত আসামীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার নথি ও ১১ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী শেখ রওশানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উপরোক্ত সাজা ও জরিমানা প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আলমগীর আশরাফ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ।

মামলার রায় প্রদান শেষে মামলার বাদি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,ফাঁসি হলে তিনি আরো খুশী হতেন।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আইনজীবী আলী আশরাফ বলেন, এ রায় বিচারপ্রার্থীদের আদালতের প্রতি আস্থা বাড়াবে।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬)