গাজা, নেত্তনাহু এবং মামদানী
শিতাংশু গুহ
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন বলেছিলেন, আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন গাজা ও পশ্চিমতীর নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতেও ফিলিস্তিনীরা রাজি হয়নি, তাঁরা আসলে স্বাধীনতা চায়না, তাঁরা ইসরাইলের ধ্বংস চায়। কথাটা ঠিক হুবহু হয়তো নয়, তবে সমার্থক এবং কথাটি সত্য। আরব মুসলিম দেশগুলো এ লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে একযোগে ইসরাইল আক্রমন চালায়, এবং পরাজিত হয়। একসময় ইসরাইল ‘দুই-রাষ্ট্র’ থিওরী মেনে নিয়েছিল, জেরুজালেমকে জাতিসংঘের হাতে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিলো। এসব ইতিহাস বিল ক্লিন্টনের কথার সত্যতা প্রমান করে। এ প্রসঙ্গ আনার কারণ হচ্ছে এ সময়ে (২১-২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেত্তনাহু তার ভাষণে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি-কে ধুইয়ে দিয়েছেন। তিনি মামদানীকে সন্ত্রাসী হামাস সমর্থক এবং মামদানীর আমলে নিউইয়র্কে ইহুদীদের ওপর আক্রমন বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। দু’টি বক্তব্যই সত্য। মামদানী এক টার্ম মেয়র, যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ৪বছর টিকে থাকতে পারেন। পূর্বাহ্নে মামদানী বলেছিলেন যে, ‘ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেত্তনাহু নিউইয়র্কে এলে তাকে তিনি গ্রেফতার করবেন’।
মামদানী বাংলাদেশ ষ্টাইলে রাজনীতি করেন, এবং ষ্টান্ট পছন্দ করেন। দুই-একজন বাদে বাংলাদেশী মুসলমানরা শুধুমাত্র মুসলিম হবার কারণে মামদানি’র সমর্থক। কিন্তু মামদানী কে? তিনি একজন শিয়া মুসলমান, এবং কট্টর। কট্টর মুসলমানের ৩টি লক্ষণের সবক’টি তিনি হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেন। অর্থাৎ তিনি এন্টি-ইসরাইল (ইহুদি বিরোধী), এন্টি-ভারত (হিন্দু বিরোধী) এবং এন্টি-আমেরিকা (এন্টি-খৃষ্টান বিশ্ব)। মামদানী ইসলামিষ্ট। আপাতত: তিনি সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ-র সমাজতন্ত্রী ছায়াতলে আশ্রয়ে আছেন। মামদানীর চেহারা সুন্দর, ভেতরটা ইসলামী মৌলবাদীদের মত কদর্য। বাংলাদেশে বর্তমানে এনসিপি নেতা যাঁরা একদা ছদ্দবেশী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন, মামদানীর চরিত্র ঠিক একই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মামদানীর চরিত্র ‘পিউর মুসলিম লীগ’। মামদানী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টকে হুমকী দেননি, অথচ ইরান নিজদেশে অসংখ্য মুসলিমকে হত্যা করেছে। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়েননি। ফিলিস্তিন ইস্যুটি মামদানী মুসলিম সেন্টিমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করছেন, আবার ট্রাম্পের কাছে ‘গুডবয়’ সেঁজে রিপাবলিকান সেন্টিমেন্ট কিছুটা ‘শান্ত’ রাখার চেষ্টা করছেন।
গাঁজায় ইসরাইলী আক্রমনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, কিন্তু মামদানী তো একথা বলছেন না যে, এ যুদ্ধ হামাস ইসরাইলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি ৭ই অক্টবর ২০২৩-র ঘটনার নিন্দা করেননি, প্রায় সর্বাংশ মুসলমান তা করেনা। সেদিন হামাস বেসামরিক নিরীহ ইসরাইলীদের প্রতি যে নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছিল তাতে যেকোন দেশের পক্ষে যুদ্ধ নামতেই হতো। ভন্ডামী ছাড়েন, এক বর্বরতার নিন্দা করবেন আর এক বর্বরতায় সমর্থন দেবেন তা হয়না। হামাস না থাকলে গাজায় শান্তি আসবে। এবার মক্কা আক্রমণে বুঝতে পারছেন তো যে মুসলমান-মুসলমান ভাইভাই না, ওটা ভাওতাবাজি, ইরানের মুসলমান বাংলাদেশের মুসলমানের ভাই নয়! বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা মুসলিম বিশ্বে থাকলে মামদানী কিছুই হতেন না, উন্নত বিশ্বে গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে মেয়র হবেন এবং তলে তলে ইসলামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন, এ দ্বিচারিতা খুব বেশিদিন চালানো সম্ভব হবেনা, মানুষ বোঝে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেদেশে প্রায় ১৮% মুসলমান, এবং তারা ভালো আছে। আচ্ছা, মুসলিম বিশ্বে ইহুদীরা থাকতে পারেনা কেন? সৌদি আরবে ১০০.০% মুসলমান কেন? পাকিস্তানে অহরহ শিয়া মসজিদে বোমা পড়ে কেন? জানি বলবেন, হিন্দুদের মধ্যেও তো জাতপাত আছে! তা আছে, তবে তারা একজন অন্যজনের মন্দিরে বোমা মারেন! বিশ্বের যেকোন শহরে বোমা ফুটলে প্রথমে আপনার মনে কি ভাবনা উদয় হয়?
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
