গৌরীপুরে ৭৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম
গৌরীপুর প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ্য সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও সহকারী শিক্ষকের ৪৭ টি পদও শূন্য। ফলে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭৭টি। এর মধ্যে ৭৭টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৪৭টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এসব বিদ্যালয়ের অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ। বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় তাদের। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের চাপও বাড়ছে।
ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিউল আলম বলেন, তার বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ছয়টি। বর্তমানে কর্মরত পাঁচজন। প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য।
তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজে বাইরে যেতে হয়। আবার শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হয়। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
গৌরীপুর ইউনিয়নের গজন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজীব আহমেদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও মূলত একজন সহকারী শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাতে হয় পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের কাজও করতে হয়। সহকারী শিক্ষক হিসেবে একই পদমর্যাদার সহকর্মীদের ওপর প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করতেও বিবেকে বাঁধে।
গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত বলেন, ৭৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবীতে মামলা করায় প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতি করা যায়নি। এখন পদোন্নতির বিষয়টি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে এখনও সুস্পষ্ঠ কোন নির্দেশনা পাইনি।
সহকারী শিক্ষকের ৪৭টি পদ শূন্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর শূন্যপদের তালিকা নিয়েছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছে, দ্রুতই এসব পদ পূরণ হবে।’
(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬)
