নাম ঠিকানা নেই এমন ৪ নারীর ঠাঁই হয়েছে 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের হাইশুর গ্রামে ১ বিঘা জমির উপর রয়েছে বিশ্ব মানব সেবা সংঘের কার্যালয়। এটি এখন জেলাব্যাপী হাইশুর বৃদ্ধাশ্রম নামে পরিচিত। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলার নারী, পুরুষসহ ২৪ জন প্রবীণ নাগরিক  বসবাস করছেন। এরা দরিদ্র পরিবারের সদস্য। এদের মধ্যে ৪ নারীর নাম ঠিকানা অজ্ঞাত। সবাইকে দেখাশোনা  করছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস। তবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে জেলার পশ্চাদপদ গ্রামে। এখানে যাতায়াত ও  আবাসনের সমস্যা প্রকট। প্রবীণরা টিনের জরাজীর্ন  ঘরে  বসবাস করছেন। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। তখন মাত্র ৫ জন প্রবীণ এখানে বসবাস করতেন। ১৯৯৯ সালে গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি  রেজিস্ট্রেশন পায়। যার  নম্বর -২২৮/৯৯। 

বর্তমানে এ প্রবীণ নিবাসে ২৪ জন প্রবীণ বসবাস করছেন। এর মধ্যে ৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এখানে ২৬ জনের থাকার ব্যাবস্থা রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমটিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। প্রয়োজন বাসযোগ্য অবকাঠামো। এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব মানব সেবা সংঘকে ২০২১ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর মানব কল্যাণ স্বর্ণ পদকে ভূষিত করে।

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামের জগদীশ মজুমদার, কলিগ্রামের সিদ্ধেশ্বর বৈরাগী, কাশিয়ানী উপজেলার সিঙ্গা গ্রামের বিনা দত্ত, হাইশুর গ্রামের পারুল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাটারবাড়ি গ্রামের হাসি বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের শান্তি বিশ্বাস, ভেন্নাবাড়ি গ্রামের সবিতা রানী মন্ডল, গোপালগঞ্জ জেলা শহরের কালিবাড়ি রোডের কিমোমণি বিশ্বাস, এতিমখানা রোডের সুলতা আঢ্য, খান সাহেব রোডের (নতুন স্কুল রোড) মো: সামাদ শেখ, কোটালীপাড়া উপজেলার লাটেঙ্গা গ্রামের ফুলমালা বাড়ৈ, কলাবাড়ি গ্রামের শক্তিপদ বালা, খুলনা জেলার রূপসা গ্রামের পূর্ণি গোলদার, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা’র ফুলমতি বেগম, বরগুনার গীতা কর্মকার, মাদারীপুর জেলার কদমবাড়ি গ্রামের আলোমতি মন্ডল, যশোরের জয়পুর গ্রামের সুজিৎ সিনহা, ব্রহ্মপুরের গীতা মিত্র, বাগেরহাট জেলার রামপালের অভিমন্যু সরদার, কচুয়ার সাবিত্রি মালো, নাম ঠিকানা উল্লেখ নেই এমন অজ্ঞাত মহিলা ৪ জন এখানে বসবাস করছেন।

প্রতিষ্ঠানে সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, নাম ঠিকানা নেই এমন ৪ নারীর এখানে ঠাঁই হয়েছে।ভবঘুরেরমতো এরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরা ফেরা করত। এদের এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে অজ্ঞাত হিসেবে। এছাড়া রয়েছে নাম পরিচয়বাহী আরো ২০ জন। ২৪ জনের প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারের জন্য ১২ কেজি চাউল,২ কেজি ডাল,২ কেজি আটা,১ লিটার সয়াবিন তেল,৮ কেজি বিভিন্ন ধরনের সবজি,আধা কেজি কাচা মরিচ,শুকনো মরিচ ১শ’ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম জিরা, ৫ কেজি মাছ, ৬ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস, ৩০ পিচ ডিম, ১ কেজি চিনি, চা ১০০ গ্রাম, চিড়া ১ কেজি, লবন ১ কেজি,হলুদ ২৫০ গ্রাম,১০ পিচ সাবান, গুড়া সাবান ১ কেজি ওষুধ বাবদ ৫শ’ টাকা, ১ শ’ টাকার গ্যাস, ৩ শ’ টাকার জ্বালানী ও ফল বাবদ ৩০০ টাকা প্রয়োজন হয়।

সভাপতি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক বছরে ২ বার জিআরের মাধ্যমে চাউল দেন। বিভিন্ন সহৃদয়বান ব্যাক্তির সাহায্যে প্রতিষ্ঠানটি কোনো রকম চালিয়ে নিচ্ছি। জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যাক্তিগত ভাবে আমাদের সহযোতিা করেছেন। তিনি তার দপ্তর থেকে সহোযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিদ্যামান সমস্যা দূরকরা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আরো গতিশীল হবে। সেবারমান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া শুরু থেকেই সমাজসেবা অধিদপ্তর আমাদের পাশে রয়েছে। তারা আর্থিকসহ সব ধরণের সহযোগিতা করে চলেছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২১সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে মানব কল্যাণ স্বর্ণপদক পুরস্কার প্রদান করে। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। তবে আমরা স্বীকৃতির জন্য কাজ করি না। মানব সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছি। এটি আমার ব্রত।

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, আশুতোষ বিশ্বাস একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। তাকে সকলের সহোযোগিতা করা উচিত।আমি ব্যাক্তিগত ভাবেও সহযোগিতা করেছি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা যায় তার সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়া সরকারের কাছে আহবান থাকবে সমাজের কল্যাণ মূলক কাজে সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন বলে আশাকরি।

গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সবসময় বৃদ্ধাশ্রমটির পাশে রয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে রেজিস্ট্রেশন দিয়েছি। সব ধরণের সহযোগিতা করছি। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাজের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছি। বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ জনগোষ্ঠির কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

(টিবি/এসপি/অক্টোবর ০১, ২০২৬)