সাতক্ষীরায় মারামারি ঠেকাতে গিয়ে কলেজ ছাত্র খুন
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : মারামারি ঠেকাতে গিয়ে কিশোর গ্যাং এর সদস্যের ছুরিকাঘাতে এইচএসসি ফলপ্রার্থী কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান খুন হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাগে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউল ইসলামের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বান হোসেন নামের একাদশ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে। সে শহরের ইটাগাছার ফিরোজউদ্দিনের ছেলে ও শহরের আলিয়া মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।
নিহত জাকারিয়া খান (১৯) সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার রুচিরা বেকারী মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি ফল প্রত্যাশী।
শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে থেকে প্রাণী সম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা শুরু হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিনের ভাইপো কিশোর গ্যাং এর সদস্য নাহিদ ইসলাম রনিসহ ৯/১০ জন তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। তিনি সিগারেট দেননি। এ সময় তার ভাই লিটন হোসেন বাবুর ছেলে পল্লী মঙ্গল স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে সদস্য পাশ করা বাপ্পি হাসান দোকানে চা বানাচ্ছিল। চায়ের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে রণিসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির বচসা হয়। বাপ্পিকে তারা বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। এ সময় রুচিরা বেকারীর মালিকের ছেলে জাকারিয়া খান বাপ্পিককে রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করায় রণি তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করে জখম করে। জাকারিয়া ও বাপ্পিকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুসফুসে ছুরির আঘাত লাগায় অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাকারিয়াকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কাটিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাইপো জাকারিয়া খান শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে লাবণী মোড়ের নিজেদের ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান রুচিরা বেকারী থেকে বের হয়ে ইটাগাছা মামার দোকানে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউলের চায়ের দোকানে কর্মরত বাপ্পি হাসানকে কিশোর গ্যাং এর সদস্য নাহিদ ইসলাম রনি ও তার সহযোগীদেও হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তার বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জাকারিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
(আরকে/এএস/অক্টোবর ০৩, ২০২৬)
