বিশ্ব শিক্ষক দিবস
শিক্ষকদের মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক অঙ্গীকার
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
মানুষের জীবনে মা-বাবার পর সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব যাঁরা ফেলেন, তাঁদের অন্যতম শিক্ষক। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করেন, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখান, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেন এবং ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথ দেখান। তাই শিক্ষকতা নিছক একটি পেশা নয়, এটি একই সঙ্গে জ্ঞান, দায়িত্ব, নৈতিকতা ও মানবিকতার এক মহৎ অঙ্গীকার।
প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে শিক্ষকতার মর্যাদা, অধিকার, দায়িত্ব, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ নিয়ে ILO-UNESCO যে ঐতিহাসিক সুপারিশ গ্রহণ করেছিল, তার ৬০ বছর পূর্তি হচ্ছে ২০২৬ সালে। এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য, “Standing with teachers: 60 years of protecting the profession, advancing its status and shaping our futures”। অর্থাৎ শিক্ষকতার পেশাকে সুরক্ষা দেওয়া, মর্যাদা উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কিংবা অবকাঠামোগত সমৃদ্ধি যতই হোক না কেন, তার স্থায়ী ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষার মাধ্যমে। আর শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিক্ষক। ফলে শিক্ষকের মান, মর্যাদা, দক্ষতা ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ সরাসরি সম্পর্কিত।
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগও আগের তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) নিয়মিতভাবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করছে। ২০২৪ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানও সরকারি পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষার পরিমাণগত বিস্তারের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষার গুণগত মানের ওপর। একটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে কি না, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সে কী শিখছে, কীভাবে শিখছে এবং সেই শিক্ষা তার চিন্তা, আচরণ ও ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র শিক্ষার প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। একজন শিক্ষকের সামনে এখন শুধু পাঠ্যবই শেষ করার দায়িত্বই মূখ্য নয়। শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করতে শেখানো, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও শিক্ষকের দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাপীও শিক্ষকতার ওপর চাপ বাড়ছে। UNESCO বলছে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষিত, সহায়তাপ্রাপ্ত ও মূল্যায়িত শিক্ষক অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিশ্বে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত শিক্ষক প্রয়োজন এবং বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষকসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম, কোথাও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে, আবার কোথাও শিক্ষককে প্রশাসনিক ও নানা ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। শিক্ষকসংকট শুধু ক্লাসরুমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, এর প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীর শেখার পরিবেশ ও শিক্ষার মানের ওপরও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যানবেইসের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ও উঠে এসেছে।
শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক একবার প্রশিক্ষণ পেলেই তাঁর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে পাঠদান পদ্ধতি, প্রযুক্তি, শিক্ষার্থীর মনস্তত্ত্ব, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং সমাজের প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়। তাই শিক্ষকতার পুরো কর্মজীবনজুড়ে ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা জরুরি। প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না, বরং এটি একজন দক্ষ শিক্ষকের কাজকে আরও কার্যকর করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার্থীরা যাতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই, মৌলিক চিন্তা ও সৃজনশীলতার চর্চা করতে পারে, শিক্ষককে সেই সক্ষমতা তৈরি করে দিতে হবে।
শিক্ষকের নিজের মর্যাদার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষককে শুধু পরীক্ষার ফলাফল তৈরির যন্ত্র হিসেবে দেখলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হলে তার দায় কেবল শিক্ষকের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত নয়। শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিবেশ, আর্থসামাজিক অবস্থা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষাসামগ্রী, উপস্থিতি, পুষ্টি, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক পরিবেশসহ অনেক বিষয় শিক্ষার ফলাফলের সঙ্গে জড়িত। তাই শিক্ষকের কাজকে মূল্যায়ন করতে হলে একটি সামগ্রিক কাঠামো প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ঐতিহাসিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের একজন শিক্ষক বহু সময় শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, তিনি স্থানীয় সমাজের একজন পরামর্শদাতা, অভিভাবক ও আলোকিত মানুষ হিসেবেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষকতার পেশাকে আরও আকর্ষণীয়, সম্মানজনক ও পেশাগতভাবে শক্তিশালী করার জন্য বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। যোগ্য তরুণদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে হলে তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, পেশাগত উন্নতির সুযোগ, প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার অর্থ শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, শ্রেণিকক্ষের উপযুক্ত পরিবেশ এবং সমাজে পেশাটির প্রতি যথাযথ সম্মান। UNESCO-এর ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনাতেও শিক্ষকদের প্রতীকী, পেশাগত ও বস্তুগত মর্যাদা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঝরে পড়া। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার এখনও উদ্বেগের বিষয় এবং ২০২৪ সালে বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় শিক্ষককে শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। তবে ঝরে পড়া রোধের দায়িত্ব একা শিক্ষকের নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশু, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থী এবং দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা অব্যাহত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় কিংবা নগরজীবনের নানা সামাজিক সমস্যা অনেক শিশুর শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষককে শুধু পাঠদানের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
শিক্ষকের ভূমিকা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করানো নয়। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করেও যদি অসৎ, অসহিষ্ণু, দায়িত্বজ্ঞানহীন বা মানবিক মূল্যবোধহীন হয়ে ওঠে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নয়। তাই বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, সহনশীলতা, পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে চর্চা করা প্রয়োজন। এই জায়গায় শিক্ষকই হতে পারেন সবচেয়ে কার্যকর রোল মডেল।
রাষ্ট্রের দায়িত্বও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক বণ্টন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত বৈষম্য কমানো জরুরি। শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার বড় পার্থক্য থাকলে সার্বজনীন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদেরও পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে হবে, নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং জ্ঞান অনুসন্ধানের সহযাত্রী হিসেবে দেখতে হবে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে বিশ্লেষণ, যুক্তি, সৃজনশীলতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস তাই কেবল ফুল দিয়ে শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি নিজেদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। আমরা যে ধরনের বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাই, তার ভিত্তি আজকের শ্রেণিকক্ষেই তৈরি হচ্ছে। সেই শ্রেণিকক্ষের অন্যতম প্রধান নির্মাতা শিক্ষক।
একজন ভালো শিক্ষক একটি প্রজন্মকে বদলে দিতে পারেন। একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবনপথ পরিবর্তন করতে পারেন। একটি বিদ্যালয়ের দক্ষ শিক্ষকসমাজ একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তাই শিক্ষকের প্রতি সম্মান আসলে ভবিষ্যতের প্রতি সম্মান।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে সেই পুরোনো সত্যটিই নতুন করে তুলে ধরছে, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা না করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত স্বাধীনতা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজেদের পেশার মর্যাদা আরও সমুন্নত রাখতে হবে।
সরকার, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষকসমাজ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষা নিয়ে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা অবকাঠামোর হিসাব করলে চলবে না, আমাদের দেখতে হবে একজন শিক্ষার্থী কতটা মানবিক, দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যৎ উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই দেশের সব শিক্ষককে গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানানোই যথেষ্ট নয়, তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করতে হবে। কারণ আজকের শিক্ষককে আমরা যতটা সম্মান, স্বাধীনতা ও সহযোগিতা দেব, আগামী দিনের বাংলাদেশ ততটাই জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও দক্ষ হয়ে উঠবে।
শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান করা নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান করা। তাই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, শিক্ষকদের মর্যাদা সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করব।
লেখক : শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক।
