পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় চারটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।

আজ রবিবার সকালের দিকে মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধন শুরু হয়। পরে তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন এবং বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার মানবণ্টনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চারটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত বা পুনর্গঠন এবং বর্তমান কমিটির সদস্যদের ভবিষ্যৎ কমিটিতে না রাখার দাবিও তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

বক্তারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা।

বক্তাদের দাবি, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছে। সে হিসাবে পাসের হার ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিক্ষোভ চলাকালে মাদ্রাসার টিআর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাজুর বিরুদ্ধেও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে পরিচালনা কমিটি তা গ্রহণ করেনি। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার তিনি বিক্ষোভকারীদের সামনে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

মানববন্ধনে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম, বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. দুলাল সরকার, প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসিসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসির উদ্যোগে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম আগামী ৫ অক্টোবর উপজেলা কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়েছেন।

(পিএস/এসপি/অক্টোবর ০৪, ২০২৬)