আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ে ইয়েমেনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর মোখা ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।

তবে, হুথিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, মোখা পুনর্দখলের পাশাপাশি রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যেও তারা ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরু করেছে। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, হুথিদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তারা মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

একই সঙ্গে, ওই লড়াইয়ে হুথিদের কয়েকজন যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।

সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও সোমবার হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিতে ১০০টি যুদ্ধবিমান কাজ করছে।

একই সঙ্গে, বাব আল-মান্দাবের আকাশে ‘বিমান সুরক্ষা’ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হুথিদের শত শত অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, তারা তাইজ প্রদেশের ধুবাব জেলা ও বাব আল-মান্দাবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে।

এদিকে, সরকারপন্থি সাবা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ধুবাবে লড়াইয়ে হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস ও জায়ান্টস ব্রিগেডের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন।

তবে, মোখা পুনর্দখলের দাবি নাকচ করেছে হুথিরা। হুথি নিয়ন্ত্রিত তাইজের উপ-গভর্নর ফুয়াদ সিনান সোমবার সন্ধ্যায় মোখা শহর থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তারা শহরের রাস্তায় ঘুরছেন। তাই মোখা দখলের খবর সঠিক নয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাওরি বলেন, পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, বাব আল-মান্দাবের দক্ষিণে ও তাইজ শহরের কাছে তীব্র লড়াই চলছে। তবে মোখা এখন কার নিয়ন্ত্রণে, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, হুথিরাও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাবিগ এলাকায় আরামকোর একটি শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে, এসব হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৬, ২০২৬)