কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র খুন, গ্রেপ্তার ২
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী নাহিদ হাসানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াসিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ হাসান সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশিচমপাড়ার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও অমিত হাসান ওরফে শিপন (৩০) একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে। তবে শিপনের গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জ উপজলার শুইলপুর গ্রামে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী নাহিদ হাসান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াসিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রামে অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সীমান্তবর্তী একটি স্থান থেকে এজাহারভুক্ত নাহিদ ও তার সহযোগী জাকারিয়া হত্যায় সন্ধিগ্ধ অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে শুইলপুর গ্রামের শুকর আলী জানান, শিপনের সঙ্গে নাহিদের সুসম্পর্ক থাকায় জাকারিয়া হত্যার পরপরই তারা দুজন শুইলপুর গ্রামে অবস্থান করতো। মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে পুলিশ তাদেরকে শিপনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধের জেরে নাহিদসহ কয়েকজন তাকে মারপিট শুরু করলে তাকে বাঁচাতে যেয়ে নাহিদের ছুরিকাঘাতে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ফলপ্রত্যাশী জাকারিয়া মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে ্এজাহারভুক্ত আসামী মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
(আরকে/এসপি/অক্টোবর ০৬, ২০২৬)
