মৃৎশিল্পীর নিপুণ ছোঁয়ায় সেজেছে দুর্গা
সোনাতলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : শরতের শুভ্র আকাশ,কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যির অপেক্ষায় দিন গুনছেন সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা। আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার সোনাতলায় মন্দিরে মন্দিরে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী, প্রতিমা কারিগর, ডেকোরেটর ও মন্দির কমিটির সদস্যরা।
মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়,বাঁশ ও মাটির কাঠামোতে ইতোমধ্যেই প্রাণ পেয়েছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবার। কোথাও শেষ হয়েছে মাটির কাজ, কোথাও চলছে প্রতিমার শেষ পর্বের কাজ। মাটির কাঠামো শুকিয়ে গেলেই রং-তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গা, শিব, কার্তিক, গণেশ,লক্ষ্মী ও সরস্বতী সহ তাঁদের বাহন হাঁস, ময়ূর, পেঁচা, সিংহ এবং অসুরকে সাজিয়ে তোলা হবে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ। কারিগরদের কেউ প্রতিমার শরীরে শেষবারের মতো মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ আবার নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর অবয়ব। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, আর দু-এক দিনের মধ্যেই কারিগররা রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবেন। এরপর সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হলে মন্দিরগুলো পরিণত হবে উৎসবের মিলন মেলায়। একদিকে মৃৎশিল্পীরা যখন প্রতিমা তৈরিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে মন্দির কমিটির সদস্যরাও বসে নেই। ডেকোরেটরদের মাধ্যমে মন্দিরের প্যান্ডেল, গেট, তোরণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সোনাতলার মন্দিরগুলোতে এখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই সনাতনী নারী-পুরুষ ও পরিবারের সদস্যরা পূজার কেনাকাটাও শুরু করেছেন। নতুন পোশাক, পূজার সামগ্রী ও নানা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাজারগুলোতেও বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মন্দিরগুলো আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে এবং ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দর্শনার্থী ও ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন জানান, এবার সোনাতলা উপজেলায় মোট ৫৩টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দিরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। পৌরসভা সহ উপজেলার পৌরসভায় ৮টি, সদর ইউনিয়ন ৪টি, মধুপুর ৭টি, তেকানী চুকাইনগর ৩টি, পাকুল্লা ৫টি, জোড়গাছা ৮টি, দিগদাইড় ১২টি ও বালুয়া ৬টি মোট ৫৩টি মন্দিরে এ বছর পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে দুর্গোৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় উপজেলার পূজা মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে সাথে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মন্দিরগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাতলা উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার চাদঁরে ঢেকে রাখা হবে।
(বিএস/এসপি/অক্টোবর ০৬, ২০২৬)
