স্পোর্টস ডেস্ক : ইংল্যান্ডের জার্সিতে রেকর্ডের পাতায় আরো একবার নিজের নাম লিখিয়েছেন হ্যারি কেইন। চেকিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। একই রাতে জাতীয় দলের হয়ে ১২৫তম ম্যাচ খেলে পিটার শিলটনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। দেশের হয়ে তার গোলসংখ্যাও এখন ৯১।

ওয়েম্বলিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড। ২৭ মিনিটে ভ্লাদিমির কাউফালের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে কেইনের জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। টানা তৃতীয় জয়ে নেশন্স লিগের আগামী মার্চের কোয়ার্টার-ফাইনালের পথও অনেকটাই পরিষ্কার করেছে তারা।

রেকর্ডের রাতে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেইন জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

কেইন বলেন, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। শিলটনের সঙ্গে ১২৫ ম্যাচের মাইলফলকে পৌঁছানোটা পরম সৌভাগ্যের। আমি ইংল্যান্ডের প্রতিটি ক্যাম্পে আসতে ভালোবাসি, প্রতিটি ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং নিজের সেরাটা দিতে ভালোবাসি। এটা শুধু আমার বিষয় নয়, পুরো দলের বিষয়। এমন একটি ম্যাচে একাধিক গোল করে দলকে জিততে সাহায্য করতে পারাটা দারুণ। বলা যায়, এটি ছিল একেবারে নিখুঁত একটি রাত।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বীকৃতির আলোচনাতেও আছেন কেইন। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ীর নাম। ভোটপর্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় সাবেক তারকা ফুটবলারদের পছন্দের তালিকা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, হ্যারি কেইন ও লিওনেল মেসিকে ঘিরে চলছে বিশেষ আলোচনা।

এবারের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কেইনের পাশাপাশি রয়েছেন গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, রদ্রি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ আরো বেশ কয়েকজন তারকা।

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজের নাম থাকাকে গর্বের বিষয় হিসেবেই দেখছেন কেইন।

“সত্যি বলতে, আমার নাম এসব তালিকায় থাকাটা নিয়ে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি মনে করি, এটা আমার ভালো কাজেরই ফল। নিজের অর্জন ও রেকর্ড নিয়ে আমি গর্বিত। ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়াটাও অবশ্যই গর্বের বিষয়। আমার মনে হয়, প্রত্যেক অ্যাথলেট কিংবা ফুটবলারই নিজের সেরাটা দিতে চায়। আমিও এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি।”

চেকিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর ৮১ মিনিটে কেইনকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ টমাস টুখেল। মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থ ও ওয়েম্বলির দর্শকদের কাছ থেকে পান দাঁড়িয়ে অভিবাদন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়কের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ ছিলেন এই কোচ।

টুখেল বলেন, “সে সবসময়ই পারফর্ম করে। পিটার শিলটনের রেকর্ডে সমতা ফেরানোর দিনেই এমন পারফরম্যান্স করা অবশ্যই বিশেষ কিছু। যদিও এটি প্রমাণ করার জন্য তার কোনো প্রয়োজন নেই, তবুও সে বারবার নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে যাচ্ছে। আবারো সে দুর্দান্ত খেলেছে।”

কেইনের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন টুখেল। ইংল্যান্ডের চার ম্যাচেই খেলেছেন অধিনায়ক, প্রতিবারই শুরু থেকে মাঠে নামার আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি।

টুখেলের ভাষায়, “সে আমাদের চারটি ম্যাচেই খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচেই শুরু করতে চেয়েছে। সে অসাধারণ একজন অধিনায়ক। আশা করছি, পরের ক্যাম্পে সে আরো দুটি ম্যাচ খেলবে।”

কেইনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী টুখেল। তার মতে, ইংলিশ ফুটবলে কেইনের অবস্থান এরই মধ্যে কিংবদন্তির পর্যায়ে।

“সে ইংলিশ ফুটবলের একজন কিংবদন্তি। আশা করি, সে ফিট থাকবে এবং রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবে। সে অনেক তরুণকে ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করবে এবং তার মতো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখাবে। সে একজন অসাধারণ আদর্শ এবং এই প্রশংসা তার প্রাপ্য।”

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৭, ২০২৬)