স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেছেন,“রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা একসময় মনে করতেন, অপরাধ করেও পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু হত্যা মামলার রায় প্রমাণ করেছে, অপরাধীদের বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।”

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মামলার বিচারিক অগ্রগতি ও পরবর্তী শুনানি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি । তবে আমরা মামলায় কোনো বিলম্ব ঘটাতে চাই না। নাগরিকের দ্রুত বিচার প্রাপ্তির যে সাংবিধানিক অধিকার, আমরা চাই সেটা নিশ্চিত হোক।”

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “দ্রুত শুনানি মূলত আসামিপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। চূড়ান্ত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সাজা বহাল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।”

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো ধরনের বিলম্ব করবে না। আমরা একদিনও শুনানি মুলতবি চাইব না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত। মানুষ এই মামলার রায় কার্যকর দেখতে চায়।”

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দণ্ডিত ব্যক্তিরা বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন। ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন।

এ মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১, এর রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা পাঁচ আসামি হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে রায়ে সন্তুষ্ট থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করেনি।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৭, ২০২৬)