একই পরিবারের চার সদস্যকে অজ্ঞান করে টাকা ও গহনাসহ সাত লাখ টাকার মালামাল চুরি
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : খাবারের সাথে বিষাক্ত জিনিস মিশিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে বাড়ির গ্রীল কেটে সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা ও নগদ দেড়লাখ টাকাসহ সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত মাঝ রাতে সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের সঞ্জয় সাহার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর সাহাপাড়ার নিতাই সাহার(কবিরাজ) ছেলে সার্কিট হাউজ মোড়ের পাঠাও ক্যুরিয়র সার্ভিসের কর্মী সঞ্জয় ওরফে লিটন সাহা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার স্ত্রী মৌসা রানী সাহা ছোট ছেলে দীপ্ত সাহাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে প্রাণ ডাক্তারের বাড়ির সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনিসহ তার মা মনিকা সাহা, বড় মেয়ে ডিবি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পিউ সাহা একে একে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তারা সকলে গ্রাম ডাক্তার বিকাশের কাছে চিকিৎসা নেন। রাত ১১টার দিকে তারা খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
শনিবার সকালে তারা জানতে পারেন যে, তাদের বসতঘরের পিছনের গ্রীল কাটা। ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করা। বাড়ির সামনের বারান্দার গ্রীল কাটা। পরে তারা জানতে পারেন যে, শোকেজ এর ড্রয়ার ভেঙে তিনটি সোনার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল, এক জোড়া শাখা বাঁধানো, একজোড়া কানপাশা, দুটি সোনার আংটি, সোনার চেইনের লকেট দুটো, একটি মঙ্গল সূত্র ও নগদ দেড় লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। সোনার গহনা ও নগদ টাকা মিলিয়ে ক্ষতির পরিমান সাত লাখ টাকার বেশি।
সঞ্জয় সাহা আরো জানান, আশাঙ্কা করা হচ্ছে তাদের রান্না ঘরের বারান্দায় রাখা পানির ফিল্টারে বা রান্না ঘরে থাকা খাবারে বিষাক্ত জিনিস রেখে ওই পানি বা খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হওয়ার সূযোগে চোর চক্রটি শুক্রবার গভীর রাতে তাদেও ঘরের পিছনের জানালার গ্রীল কেটে ঘরে ঢোকে। পরে শোকেজ এর ড্রয়ার ভেঙে সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা ও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ মোট সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে সামনের বারান্দার গ্রীল কেটে চলে যায়।
ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে ভাত ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আরকে/এসপি/অক্টোবর ১০, ২০২৬)
