বিনোদন ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলিউড ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক তারকা। বিক্ষোভকারীদের আটক করা এবং প্রতিবাদস্থলে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের অনেক তারকা।

কঠোরভাবে এর সমালোচনা করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকশ মানুষকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনসংশ্লিষ্ট নেতা, সাংবাদিক ও কর্মীরাও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ।

প্রকাশ রাজের প্রশ্ন, ‘আর কত দিন প্রতিবাদ থেকে পালাবেন?’

বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। কার্টুনিস্ট সতীশ আচার্যের একটি কার্টুন শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘নাগরিকদের প্রতিবাদ থেকে আর কত দিন পালিয়ে বেড়াবেন? শুধু জানতে চাই।’

পরে এক ভিডিও বার্তায়ও পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এই অভিনেতা। আন্দোলনসংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে বিমানবন্দর ও বাড়ি থেকে আটকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তরুণদের বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতেও কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ রাজের ভাষ্য, মানুষের কণ্ঠস্বর আটকে রাখার চেষ্টা করে প্রতিবাদ থামানো যাবে না। গণতন্ত্র রক্ষায় মানুষ প্রশ্ন করে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। শনিবার ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দুজন ভীতু, ৪০ হাজার দাস, আর লাখ লাখ সাহসী মানুষ।’

অন্য একটি পোস্টে তিনি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার লাইভ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। দিল্লি হাট এলাকায় কয়েকশ মানুষকে নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন নেহা। পরে তাকেও আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চলচ্চিত্র সম্পাদক ও নির্মাতা অপূর্ব আসরানিও ধরপাকড়ের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। অভিজিৎ দীপকে, রত্না সিং ও ধ্রুব রাঠিকে আটকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, ‘আমাকে বলুন, এটা একনায়কতন্ত্র নয়?’ আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্রের অবসান।’

সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানিও পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ট্রেন ও মেট্রো চলাচলে বিঘ্নের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

নির্মাতা শিরীষ কুন্দরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের দেশের মানুষের প্রতিবাদ দমনে বলপ্রয়োগ কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নির্মাতা বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে এবং অভিনেতা মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবও বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। কৌতুকশিল্পী বীর দাসের পোস্টেও এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ৪০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং আশপাশের সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় জমায়েত, মিছিল ও সড়ক অবরোধের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের আটক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। প্রকাশ রাজ, অনুরাগ কাশ্যপসহ একাধিক তারকার প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১১, ২০২৬)