স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি ভ্যানচালক আনোয়ারের
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : একসময় ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবিকার সন্ধানে ছুটে বেড়াতেন পথে-ঘাটে। নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতেন। স্বপ্ন দেখতেন পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা থমকে দিয়েছে আনোয়ার মোল্যার (৩৭) জীবনের চাকা। বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের পথ। প্রতিদিন বাড়ছে চিকিৎসার খরচ। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পেরে নিজ বাড়ির বিছানায় শুয়ে দিন কাটছে তার।
আনোয়ার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চরঘাগা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক ছিলেন। গত ৬ মাস আগে প্রতিবেশীর মেহগনি গাছের ডাল কাটতে গিয়ে নিচে পড়ে আহত হন। এতে তাঁর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। অর্থাভাবের কারণে পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই তাঁকে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। বর্তমানে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকায় তার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
আনোয়ারের স্ত্রী ববিতা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবুও চিকিৎসা শেষ হয়নি। প্রতিদিন ওষুধ কেনা এবং শরীরের ক্ষত ড্রেসিং করাতে ৫০০-৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করানো গেলে তিনি সুস্থ হতে পারেন। তবে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন।
ববিতা বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই, অন্যের জমিতে একটি কুঁড়েঘর তুলে কোনোমতে বসবাস করি। তিন সন্তান আর পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। একদিকে স্বামীর চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে সন্তানদের খাবারের অভাব। সব মিলিয়ে দিশেহারা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি ঘরে পড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষরা একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আমার স্বামী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।’
বিছানার এক কোণে শুয়ে আনোয়ার এখনো স্বপ্ন দেখেন আগের মতো সুস্থ হওয়ার। আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে চান তিনি। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অসহায় পরিবারটি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ও যোগাযোগ-০১৯৩৭৬২৪২৮৮ (আনোয়ার মোল্যা)
(টিবি/এসপি/অক্টোবর ১৩, ২০২৬)
