বিনোদন ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ পালনকারী তারকাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কার ইবাদত কবুল হবে, কে কখন হেদায়েত পাবেন- এসব সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পাশাপাশি অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কটাক্ষ করার আগে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন শবনম ফারিয়া।
সেখানে তিনি হজ ও ওমরাহ পালনকারী তারকাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যের উদাহরণ তুলে ধরে এর সমালোচনা করেন।

পোস্টে শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘আপনি মানুষ হিসেবে কতটা জঘন্য, সেটা বোঝার একটা সহজ উপায় আছে।
কারও হজ বা ওমরাহর ছবি দেখলে আপনার মনে যদি প্রথমেই একটা বাজে কমেন্ট করার ইচ্ছা জাগে, তাহলে নিজের দিকে একটু তাকান।’

হজ ও ওমরাহ পালনকারী তারকাদের নিয়ে ‘এদের আবার ওমরাহ’, ‘ওমরাহ এখন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে’- এ ধরনের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, হজ পালন করার সামর্থ্য থাকলে তা মুসলমানদের জন্য ফরজ।

তবে হজ বা ওমরাহ পালন কেবল আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে নিয়ত, তাওফিক ও আল্লাহর ইচ্ছাও জড়িত।

এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আপনি কাউকে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন, তার ওমরাহ হবে না, তার ইবাদত কবুল হবে না! আপনি কে? আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া কোনো বিচারক?’

অভিনয়কে তারকাদের পেশা উল্লেখ করে শবনম ফারিয়া বলেন, পৃথিবীর অসংখ্য মুসলিম অভিনেতা ও অভিনেত্রী জীবনের বিভিন্ন সময়ে হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে শাহরুখ খান, আমির খান, হানিয়া আমির, দুর-এ-ফিশান ও ফাওয়াদ খানের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, অভিনয়শিল্পীদের ইবাদত নিয়ে মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয় কেন? আল্লাহ কি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি?

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমি খুব ধার্মিক কোনো মানুষ না, কিন্তু আমি অন্তত আপনার মতো অন্যকে বিচার করি না।’ কার আমল, নিয়ত ও প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন, তা মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই অন্যের ইবাদত নিয়ে অযথা মন্তব্য করার আগে নিজের আমলনামা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

পোস্টে দ্বিচারিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন শবনম ফারিয়া। তার প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের স্বজনদের হজ বা ওমরাহ পালনের ছবি দেখেও কি একইভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়? মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের ওমরাহর পোস্ট কিংবা ব্যাংকে বেশি মুনাফার আশায় টাকা রেখে সুদ গ্রহণকারীদের ধর্মীয় সফর নিয়েও কি একই ধরনের সমালোচনা করা হয়?

অভিনেত্রীর মতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অপছন্দ কিংবা ঈর্ষা থেকেই অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার প্রবণতা দেখা যায়। ধর্মকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কে কখন হেদায়েত পাবেন, কার দোয়া কবুল হবে কিংবা কার ভালো কাজের প্রতিদান কী হবে, তা সৃষ্টিকর্তার বিষয়।

শবনম ফারিয়া আরও বলেন, কেউ নিজের জীবনের আনন্দময় মুহূর্ত, বিশ্বাস কিংবা ধর্মীয় অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিলে তাতে আনন্দিত হতে না পারলেও অন্তত নীরব থাকা উচিত। কারও কর্মকাণ্ড লোক দেখানো মনে হলে সেটি ব্যক্তিগত ধারণা হতে পারে। তবে সে কারণে তার ইবাদত কবুল হবে কি না, সেই রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

পোস্টের শেষাংশে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আপনি ধর্ম পালন করেন, খুব ভালো কথা। কিন্তু ধর্ম পালন আপনাকে অন্যের ঈমান, নিয়ত আর ইবাদতের বিচারক বানিয়ে দেয়নি।’

অন্যের ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শবনম ফারিয়া বলেন, অন্যের ইবাদত কবুল হলো কি না, সেটা আল্লাহর বিষয়। আর সেই ইবাদত নিয়ে আপনি কতটা নোংরা মন্তব্য করলেন, সেটা আপনার নিজের আমলনামার বিষয়।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৪, ২০২৬)