একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশায় দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত, ১০৪ মণ্ডপে সিসিটিভি উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট ১০৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সভাপতি বিধান কুমার বিশ্বাস।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পাংশা উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির বিষয় উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রিফাতুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাংশার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহম্মদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মইনুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সভায় ইউএনও রিফাতুল হক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ১০৪টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজা উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উপজেলা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সভাপতি বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মইনুল ইসলাম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

সভায় পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রিঙ্কু বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির সুলতান মাহমুদ সভায় বক্তব্য দেন। তাঁরা নামাজের সময় মাইক ও সাউন্ড বক্সের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ধর্মীয় উপাসনা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

সভায় স্থানীয় চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

(একে/এএস/অক্টোবর ১৫, ২০২৬)