স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতিত্রয় (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার ও নির্মল রোজারিও এবং সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মনীন্দ্র কুমার নাথ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় যৌথ স্বাক্ষরে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিষয়ে ই-মেইলযোগে সুপারিশনামা প্রেরণ করেছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, “আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি যে, আপনার নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধন বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় শুরু করেছেন। তবে অংশীজন হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাথে মতবিনিময়ের কোন আমন্ত্রণ অদ্যাবধি হস্তগত না হওয়ায় এ মানবাধিকার সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি গত ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ এক সভায় মিলিত হয়ে আপনার বরাবরে প্রেরণের জন্যে নিম্নোক্ত সুপারিশ সম্বলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আপনার সহৃদয় বিবেচনার জন্যে তা নিম্নে উল্লেখ করা হল:

‘দেশে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে সংবিধানে বর্ণিত চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অপরিবর্তিত রাখার জন্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির কাছে সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করেছেন। তাঁরা একই সাথে আরো সুপারিশ করেছেন যে, বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষে মদিনা সনদ ও হুদাইবিয়া সন্ধির আলোকে বিদ্যমান সংবিধান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্যের অবসানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, প্রয়োজনে সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’

গত ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ইং তারিখে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির উল্লেখিত সুপারিশাবলী সিদ্ধান্তাকারে গ্রহণ করা হয়। সভায় গৃহীত আরেক প্রস্তাবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যথা- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, জাতীয় নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সরকারি কর্মকমিশনসহ সকল ক্ষেত্রে এবং জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়।”

(পিআর/এসপি/অক্টোবর ১৫, ২০২৬)