শ্যামনগরে দুর্গা পূজা উপলক্ষে ১৫১ কণ্ঠে পবিত্র গীতা পাঠ ও বস্ত্র বিতরণ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পুজা উপলক্ষে ১৫১ কণ্ঠে পবিত্র গীতা পাঠ ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরার শ্যমনগরের নকীপুর সার্বজনীন হরিসভা মন্দিও প্রাঙ্গণে এসব কর্মসুচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখা, শ্যামনগর উপজেলা শাখা ও ছাত্র পরিষদ শ্যামনগর শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অসীম কুমার দে। বক্তব্য দেন বাংলাদেশষ সনাতন পার্টিও সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচিব মনোজিৎ কুমার মণ্ডল, মহারাজ প্রতাপাদিত্য স্মৃতি সংসদের আহবায়ক শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, সুব্রত কুমার বৈদ্য, তাপস কুমার জোয়ারদার, প্রতিমা রানী হালদার রণজিৎ বর্মণ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আমরা নিজ ধর্ম সম্পর্কে সচেতন না হয়ে অন্য ধর্মে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে ধর্মান্তরিত হচ্ছি। এজন্য আমাদের সন্তানদের গীতা পাঠ শেখাতে হবে। গীতার মর্মার্থ একবার বুঝতে পারলে সে কোন দিনও খারপ পথে হাঁটবে না।
বক্তারা আরো বলেন, যশোরেশ্বরী কালী মন্দির আজ অস্তিত্ব সংকটে। একটি বিশেষ সুবিধাবাধী শক্তির কারণে মন্দিরের জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। মন্দিরের প্রধান ফটকে আকবর মোল্লা ও বেল্লাল অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করেছে। মন্দির পরিচালনার জন্য সার্বজনীন কমিটি করতে সব ধরণের বাধা দিয়ে জ্যোতি চট্টোপাধায় ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় মন্দিরের প্রণামীসহ যাবতীয় উপঢৌকন লুটে পুটে খাচ্ছেন। সদরের ঝাউডাঙা জগন্নাথ দেবের মন্দিরের এক একর ২ শতক জায়গার মধ্যে অর্ধেকের বেশি জবরদখল হয়ে গেছে। এবার প্রতিটি মণ্ডপে ১০০ কেজি করে খয়রাতি চাল ও একদিনের ছুটি বাড়িয়ে হিন্দুদের খুশী করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ নিরাপরাধ চিন্ময় প্রভু দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে থাকলেও বর্তমান সরকার তাকে জামিনে মুক্তি না দিয়ে হিন্দুদের সাথে ছেলে খেলা করছে। চিন্ময় প্রভুর মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করা ছাড়া বিকল্প রাস্তা নেই। অনুষ্ঠান শুরুতেই প্রদীপ জ্বালিয়ে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অসীম কুমার দে। একত্রে ১৫১ জন গীতা পাঠে অংশ নেন। পরে গীতা পাঠে অংশ নেওয়া সকল শিশুদের পুরষ্কৃত করা হয়। ৫০ জনেরও বেশি নারী ও পুরুষকে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
(আরকে/এসপি/অক্টোবর ১৭, ২০২৬)
