পাংশায় মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত
এ কে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের সমাগমে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি এ উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ।
চলতি বছর রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪৬৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পাংশা উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ১০৪টি পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী মূল উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। পূজার বিভিন্ন পর্বে ভক্তরা দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি নিবেদন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজামণ্ডপে আসছেন অনেকে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। তাই ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণবোধ জাগ্রত করারও বার্তা বহন করে।
পাংশায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাংশা মডেল থানা পুলিশের আয়োজনে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এ সভা হয়। সভায় পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি মণ্ডপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক ও নিজস্ব পাহারার ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে পাংশার মানুষের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দ, শান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের পূজা সম্পন্ন হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এ উৎসব স্থানীয় সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
(একে/এএস/অক্টোবর ২০, ২০২৬)
