কালিগঞ্জের ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ফের ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিসহ নানা অভিযোগ শিক্ষক শহীদুলের বিরুদ্ধে
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অশালিন আচরণ, বিদ্যালয়ের বিভিন্নখাতে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমানসহ পরিচালনা কমিটির তিনজন সদস্য, কয়েকজন অবিভাবক গত রবিবার এ অভিযোগ করেন। আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ১ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু মুছা সরদার সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদুল ইসলাম ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসেন। এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে শহীদুল ইসলাম ছাত্রীদের ছবি উঠিয়ে ব্লাক মেইল করার চেষ্টা, শ্লীলতাহানির অভিযোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, খেলাধুলার বরাদ্দ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্লিপের টাকা পকেটস্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে সর্বশেষ সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করে। পরিস্থিথি বুঝে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠান। এরপর শিক্ষা কর্মকর্তাদেও হাতে পায়ে ধরে ও ম্যানেজ করে তাকে এ বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ৩৮ নং মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৯ নং কাজলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৭ নং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৪ নং নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭২ নং সেহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরি করা কালিন ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে জুতোপেটা, ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। ওইসব ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ফটোকপি সংযুক্ত করা হয়েছে অভিযোগপত্রের সাথে।
এ ব্যাপারে ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাষ্টার শহীদুল ইসলামকে শাস্তিমূলক বদলী করা না হলে এখানে অনেক ছাত্রী অন্যত্র চলে যাবে। তা ছাড়া বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে চাকুরি করার সময় তার বিরুদ্ধে একের পর এক ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। তাতেও তার চরিত্র পাল্টায়নি। রক্তের গ্রুপ যেমন পরিবর্তণ হয় না, তেমনি তারও চরিত্র পাল্টাবে না। অক্টোবরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করা হবে উপজেলা সদরের ফুলতলা মোড়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালিন ছাত্রীদেও শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে কোন অভিযোগ সঠিক নয়। পূর্বেও অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে বদলী করানোর জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
(আরকে/এসপি/অক্টোবর ২২, ২০২৬)
