স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও মো. সিয়াম ছাড়া অপর দুই জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন দুপুর ১টার দিকে সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সেদিন বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি অপ্রতিম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাননি। এরপর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দুই কিশোরসহ তিন জনকে আটক করে। অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ হত্যা মামলা করার পর ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হলে তারা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

চার্জশিটে বলা হয়, আইফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে বাঁশের তৈরি কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। তুহিন, সিয়ামসহ চার জনই হত্যার পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিল। সিয়াম ছাড়া বাকি তিন জন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, গতরাতে তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করে জানিয়েছেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, আদালত দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেবেন।

পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার নির্জন বনে যান তুহিন। তুহিন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় অপ্রতিম। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন ও পরে দুই কিশোর লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে ছেলেটির মৃত্যু হয়।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের আগেই আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুই কিশোরকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের কাছ থাকা আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে তুহিন ও দুই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অপর অভিযুক্ত সিয়াম সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ না নিলেও হত্যার পরিকল্পনায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৩, ২০২৬)