ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ডেসটিনির আদলে খুলেছিলেন প্রাইম বাজার নামের একটা প্রকল্প। এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। এজন্য শত শত যুবকের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছিলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই উধাও প্রাইম বাজারের স্বপ্নদ্রষ্টা। পরে স্থানীয়রা জানতে পারে গাজীপুর গিয়ে একটা এনজিওতে চাকরি করছেন। এর কয়েক বছর পর এলাকায় ফিরে আসেন। ভাব নিতে থাকেন বড় বড় কর্মকর্তাদের মত। তখন থেকে হাতে ওয়াকিটকি, চলাফেরা করেন প্রাইভেট কারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যমে খুলেছেন এসকে নামের ফেসবুক টিভি। 
বলছিলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার কথা।

জানা গেছে, সবুজ মিয়া সম্প্রতি তার প্রতারনা গুরুখ্যাত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে হামিদুজ্জামান জলিল খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাব নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় কালীগঞ্জ থেকে।

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে কয়েকজন মিলে নানা ফেসবুক পেজ খুলে অপকর্ম করে যাচ্ছে। হামিদুজ্জামান জলিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ শহর ছাড়াও যশোর-ঝিনাইদহে নিয়মিত নারী সাপ্লাই করে থাকে। অনেক সময় বহিরাগতদের নিয়ে এসে হানিট্রাপে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে।

নাম প্রকাশে যশোরের এক ব্যবসায়ী জানান, জলিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ একদিন যশোরের একটি হোটেলের রুমে গিয়ে এক মেয়ের সঙ্গে আমার ছবি তোলে। পরে চারলাখ টাকা দাবি করে। আমি কোনো উপায় না পেয়ে এক বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দুই লাখ টাকা সেখান থেকে দিই। পরে আরো কয়েক দফায় বাকি টাকা শোধ করি।

এদিকে সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসকে টিভি নামের এক ফেসবুক পেজ খুলে একের পর অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময় আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের আস্থাভাজন থাকলেও ২০২৪ ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এরপর চালাতে থাকে একের পর এক অপকর্ম। দিনের বেলায় ওয়াকিটকি ও প্রাইভেট কারে করে কখনো সাংবাদিক, কখনো মাজিস্ট্রেট আবার কখনো পরিবেশ কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরসহ একাধিক জায়গায় মারধরের শিকার হয়েছে সবুজ। জেলাব্যাপী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হলে সবুজ রাতের আঁধারে ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল ও গাড়ি নিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার কাদিরডাঙ্গা গ্রামের এক বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাড়ির এক নারী বলেন, আমার স্বামী অনেক দিন ধরে বাড়িতে থাকে না। আমার ছেলে পাট বিক্রি করে কিছু টাকা ঘরে রেখেছিল। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমার ছেলেকে তারা আটক করে নিয়ে যেতে চাই। পরে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে রক্ষা করেছি।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন জালাল ও সবুজ মিয়া বলেন, এসব লিখে আমাদের কিছুই করতে পারবি না। কত বড় বড় সাংবাদিক এসে কিছু করতে পারলো না। আর তুই কী করবি।
সূত্রের দাবি, মহেশপুর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ইমরান আলম দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর মডেল থানায় চাকরি করেছেন। আর বর্তমানে তিনি তো একটা থানার প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন। ওসি ইমরান আলমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে জলিল ও সবুজ এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কোনো জটিলতায় তাদের পড়তে হচ্ছে না।

তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমরান আলম বলেন, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। হয়তো বাড়তি সুবিধা আদায়ের জন্য আমার নাম ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত ওয়াকিটকি ব্যবহার করা অপরাধ। তাদের কর্মকাণ্ডের কথা মাত্র শুনলাম। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(এইচআর/এএস/অক্টোবর ২৫, ২০২৬)