গোলের বন্যা বইয়েও ব্যালন ডি’অর জিততে পারলেন না এমবাপ্পে
স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত এক বছর কাটিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৬০ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল, সঙ্গে ১৩টি অ্যাসিস্ট।
কিন্তু এত কিছুর পরও অধরাই থেকে গেল ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা।
তার সামনে থেকে ট্রফি জিতে নিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
পেশাদার ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে দ্বিতীয় হলেন এমবাপ্পে।
এর আগে ২০১৭ ও ২০২৫ সালে সপ্তম, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ষষ্ঠ এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে তার অবস্থান ছিল নবম ও চতুর্থ।
এবারও সেরার স্বীকৃতি না পাওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে তাকে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে নিজের দাবির পক্ষে যুক্তিও দিয়েছিলেন এমবাপ্পে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ফরাসি তারকা বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, যেকোনো খেলোয়াড়েরই এই পুরস্কার জেতার লক্ষ্য থাকে। ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একটি বছর কাটিয়েছি আমি। সব বড় প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছি। আমার মনে হয়, এটি আমার জন্য ভালো একটি বছর হতে পারে। আমার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিল না।’
ব্যক্তিগত অর্জনকেই পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন এমবাপ্পে। তার ভাষায়, ‘এটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমার মনে হয়, অন্য সবকিছুর চেয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগতভাবে নিজের সামর্থ্য দেখানো ও দর্শকদের মুগ্ধ করার ক্ষমতাই এমন পুরস্কারের দাবিদার করে তোলে একজন খেলোয়াড়কে।’
তার এই যুক্তির পেছনে উদাহরণও রয়েছে। ২০১২ সালে লিওনেল মেসি এবং ২০১৩ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলীয় বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। মেসির ক্ষেত্রে অবশ্য ওই বছর কোপা দেল রে জয়ের কৃতিত্ব ছিল।
ব্যালন ডি’অর না জিতলেও ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় এবার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য যোগ হয়েছে এমবাপ্পের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্বও গড়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ১০ গোল করে তার মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। তাতে ২১ গোল করা মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি তারকা।
এই রেকর্ড নিয়ে আগে এমবাপ্পে বলেছিলেন, ‘সবাই এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছিল। তখন বুঝতে পারেন, বিশ্বকাপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মেসিকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া দারুণ ব্যাপার। অনেকের কাছেই মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।’
এ ছাড়া লা লিগায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিচিচি ট্রফি জিতেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগেও জিতেছেন গোল্ডেন বুট। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৫৯ গোলের রেকর্ডেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে বসেছেন তিনি।
এমবাপ্পের ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৭ সালে জিতেছিলেন গোল্ডেন বয় এবং ২০১৮ সালে কোপা ট্রফি। তবে এত অর্জনের পরও তার ট্রফি ক্যাবিনেটে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জায়গাটি এখনো খালি। এবারও সেই অপূর্ণতা নিয়েই ফিরতে হলো ফরাসি তারকাকে।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৭, ২০২৬)
