এটিএম রাশেদুল ইসলাম, বগুড়া : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান ওরফে খোকা (৬০) নামের এক বৃদ্ধ ও রাবেয়া বেগম (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার পণ্ডিতপুকুর বাজার ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের পালি এলাকায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের পালি গ্রামের ভুস্কুর পালি-সংলগ্ন হাটকড়ই সড়কে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুর রহমান ওরফে খোকা (৬০) নিহত হন। তিনি পালি গ্রামের মৃত ইছার উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় আব্দুর রহমান খোকা বাড়ির সামনে থেকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় হাটকড়ই এলাকা থেকে তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে নিমাইদীঘির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি পালি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপাররত বৃদ্ধকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আব্দুর রহমান খোকা গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহীও আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন বৃদ্ধকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাটগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুর রহমান খোকার মৃত্যু হয়েছে। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। মরদেহ পরিবারের কাছে রয়েছে এবং মঙ্গলবার তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার পণ্ডিতপুকুর বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাবেয়া বেগম (৩২) নামের এক নারী। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। রাবেয়া নন্দীগ্রাম উপজেলার মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে পণ্ডিতপুকুর বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাবেয়া। পরে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে সকাল ১১টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

(এআরআই/এসপি/অক্টোবর ২৭, ২০২৬)