রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬।

এ উপলক্ষ্যে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের আয়োজনে আজ বুধবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। বেলুন উড়িয়ে র‌্যালীর উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মিজ ক্উাসার আজিজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহীন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাতক্ষীরা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম, ট্রাফিক ইনসপেক্টর মোঃ গাজীউজ্জামান, বাস ট্রাক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বাবু, জেলা জামায়াতের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মুকুল, নিরাপদ সড়ক কমিটির সদস্য তৈয়ব হাসান বাবু,বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহীন. মোটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রখ্যাত চিত্রাভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন নিজের স্ত্রীর শোককে আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন। তাকে মনে রাখতে হবে। একটি পরিবারের প্রধান সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে গেলে তার পরিবারের কি হাল হয় তা সেই বলতে পারে। তাই এ ব্যাপারে পাঠ্যক্রমে পড়ানোর পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ করাতে হবে। রাষ্টের সমগ্র উন্নয়ন জাতীয় নিরাপদ সড়কের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন,সড়ক নিরাপদ রাখতে আমাদের স্ব স্ব জায়গা থেকে কমিটমেন্ট করতে হবে। আইনের প্রতি ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জীবনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহীন বলেন, নিরাপদ সড়ক একক কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চন যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা আজ জাতীয় আন্দোলনে রুপ নিয়েছে। সড়ককে নিরাপদ রাখতে চাহিদার তুলনায় জেলায় জনবল কম রয়েছে। গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি সেটা পুলিশের হউক বা অন্য কোন পক্ষের হউক তার প্রমান সাপেক্ষে যে কোন মূল্যে বন্ধ করা হবে।

অবৈধ যানবাহন প্রতিরোধে রাত্রিকালিন চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত পহেলা অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় চার হাজার ১৪টি মটরযান পরীক্ষা করা হয়েছে। ৩৩২টি মোটরযান আটক করে ৩২৩টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ৪৭৩টি মামলায় ১৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৪২৯টি মামলা নিষ্পত্তি করে আদায় করা হয়েছে ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সবশেষে প্রথমবারের মত দুর্ঘটনার সংখ্যা, মামলাসহ একজন চালকের ১১টি পয়েন্ট যাঁচাই করে জেলার দুইজন ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম ও ইব্রাহীম খলিল এবং বাস চালক গিয়াসউদ্দন সরদার ও আনোয়ার হোসেনের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

(এমকে/এসপি/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)