স্টাফ রিপোর্টার : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মগনাগরগুলোতে মামলার চাপ অনেক। সেক্ষেত্রে এখানে যারা দক্ষতা দেখাতে পারবে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন আমরা বাছাই করে তাদের এসব জায়গায় পদায়ন করতে চাই।
আর আয়েশি জজ যদি কেউ থাকেন  আপনাকে এমন জায়গায় দেওয়া হবে যেখানে আপনারা আয়েশ করে চাকুরিটা করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার সিএমএম আদালতের কনফারেন্স রুমে ইপারিবারিক আপিল আালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিচার প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ন্যায়বিচারে সহজগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালত উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে ই-পারিবারিক আদালত করা উদ্বোধন করা হয়েছে।
সেটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা ই-বেইল বন্ড চালু করেছি।
যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি আইন আছে ডিজিটালি সাক্ষী ও ডিজিটালি হাজিরা দেয়ার বিষয়ে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে হচ্ছে৷ এর পেছনে যানবাহনসহ বিপুল নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হচ্ছে। ইতমধ্যে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল এ ব্যবস্থা করেছেন। আমরা এরকম চালু করতে পারলে আরেকটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারব।

আইনমন্ত্রী বলেন, ই-জুডিসিয়ারি চালু করতে হলে সবক্ষেত্রেই জুডিসিয়াল প্রসেসটাকে ডিজিটাইজড করতে হবে। আমাদের জুডিসিয়ারির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআই। এআই দিয়ে জাজমেন্ট লিখতে গেলে বা সাক্ষ্য নিতে গেলে ন্যায়বিচার পরাভূত হওয়া আশঙ্কা থাকবে। এআই এমনভাবে মানুষের কণ্ঠকে কপি করতে পারবে যা আগামী দিনে বিচারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এআইকে মোকাবেলা করতে গেলে আপনাদের জুডিসিয়াল সেক্টরে আরও পারদর্শী হতে হবে।

বিচার বিভাগকে আস্থার জায়গায় আনার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের জায়গাকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় আনতে চাই। মানুষ যাতে মনে না করে বিচারকরা ন্যায়বিচার করছেন না বা তারা বিচারে পারদর্শী না।

লিগ্যাল এইডের কাজ সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রি কেইস মেডিয়েশন ব্যবস্থা চালু করেছি। ইউএনডিপি, জাইকাসহ বেশকিছু সংগঠন এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। আমরা ৩০টি জেলায় ইতোমধ্যে এটা চালু করেছি। যেখানে সাকসেস রেইট ৬২ শতাংমের বেশি।

বিচারকদের দক্ষতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের জুডিসিয়াল অফিসাররা যদি আরেকটু সময় দেন এবং আরেকটু ডেডিগেশন দেন তবে আমরা আগামী এক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে পারব। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মগনাগরগুলোতে মামলার চাপ অনেক। সেক্ষেত্রে এখানে যারা দক্ষতা দেখাতে পারবে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন আমরা বাছাই করে তাদের এসব জায়গায় পদায়ন করতে চাই। এখানে কেউ কেউ ১১টায় আসছেন, আবার একটা দেড়টায় চলে যাচ্ছেন। এরকম আয়েশি জজ যদি কেউ থাকেন আমরা আপনাদের আয়েশের ব্যবস্থা করতে পারব। এমন জায়গায় আপনাকে দেওয়া হবে যেখানে আপনারা আয়েশ করে চাকুরিটা করতে পারবেন। আমরা চাই জুডিসিয়াল এক্টিভিজম। আদালতের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা, এখানে গেলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়, সেটা দূর করে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৯, ২০২৬)