দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বিটিটিএফ ২০২৬ উদ্বোধন
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে (টোয়াব) শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা, বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
এবারের বিটিটিএফ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযোগ জোরদার করাই এ মেলার লক্ষ্য। মেলাটির পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল।
আজ বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলাটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি। মেলাটি আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এসময়, আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশস্থ ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী ও টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
এ বছর মেলায় টাইটেল স্পনসর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এছাড়াও, মেলাটি সফল করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
টানা ১৩ বার সফল আয়োজনের পর ১৪তম আসরে বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পর্যটন মেলায় পরিণত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে।
এবারের মেলায় ২০০-রও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০+ এক্সিবিটর, ২৫০+ কোয়ালিফাইড বায়ার, ২,৫০০+ ট্রেড ভিজিটর ও ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবেন। একইসাথে, চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০-রও বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নিচ্ছে, যা বিটিটিএফ ২০২৬-কে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্যে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।
এ বিষয়ে আয়োজনের প্রধান অতিথি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটন খাতকে বিকশিত ও বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরার পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পর্যটন খাতকে সামনে গিয়ে নিতে, আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
এ সময়, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “গত ১৩ বার সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশিয় পর্যটনকে বিশ্বের দরবার যথাযথ ও যুগোপযোগীভাবে তুলে ধরবে। এবং একইসাথে, আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সাথে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এছাড়াও, মেলাটির এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো, অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার বিসিএফসিসি।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের এই খাতের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে দেশিয় পর্যটনের বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে টোয়াব।
(পিআর/এসপি/অক্টোবর ২৯, ২০২৬)
