রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল ও জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে টানা পাঁচদিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক সমাজ, জেলে বাউয়ালি ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে, ২৯ অক্টোবর বিকাল ৪ টায়  উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দ্বীপ বেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার ইবতেদায়ী মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবন নির্ভর হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে জেলেরা, নদী বাঁচাও, বন বাঁচাও, বনদস্যুদের রুখে দাও, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো, করতে হবে, সুন্দরবন থেকে জলদস্যুদের হটাও, শান্তিতে বাঁচাও, সুন্দরবন বাঁচলে দেশ বাঁচবে, ডাকাতদের দৌরাত্ব রুখতে হবে, বনজীবিদের জীবনের নিরাপত্তা চাই লেখা বিভিন প্লে কার্ড হাতে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক ও বনজীবী ফরমের সভাপতি সালাউদ্দিন লিটন, চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মাস্টার আব্দুর রহিম, কামরুল ইসলাম বাবলু, ইয়াসিন আরাফাত, মহিলা মেম্বার ফরিদা পারভীন, পারুল আক্তার, সমাজকর্মী আশিকুর রহমান, জেলেদের পক্ষে ইকবাল হোসেন মন্টু, কবিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মাস্টার আবু তালেব প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, জেলে-বাওয়ালিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

বক্তাদের দাবি, স্যালেন্ডারের নাটক বন্ধ করে প্রকাশ্যে দস্যুদের শাস্তি দিতে হবে। দরকার হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলে এক হয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও যারা এলাকায় বসে ডাকাতদের সহযোগিতা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।বনবিভাগের উদ্দেশ্য বক্তৃতারা বলেন, আপনারা ড্রোন দিয়ে জেলে ধরতে পারেন, কিন্তু ডাকাত ধরতে পারেন না। আমরা যারা কর দিয়ে বন করি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না।

এছাড়াও, জেলেদের দাবি মানা না হলে, গণ অনশনের ডাক দেওয়ার ঘোষনা দেন তারা।

(আরকে/এএস/অক্টোবর ৩০, ২০২৬)