স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তা বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। অপপ্রচার ও কুৎসা রটিয়ে সত্য ও স্বচ্ছতাকে আড়াল করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চললেও বিকালের দিকে জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সকাল থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা গণমাধ্যমে আসেনি।

তিনি বলেন, আপনি দুইটা-তিনটা বা সাড়ে তিনটার সময় এটা বললেন, সকাল থেকে কিছুই বলতে পারেননি! কোথায় ঘটনা ঘটেছে, কে বাধা দিয়েছে, নামসহ বলতে পারলে না হয় এক কথা ছিল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় নির্বাচন কমিশন কয়েকজনকে প্রত্যাহার করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। যে কোনো নির্বাচনে দু-একটি অভিযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সেখানে ব্যাপক অনিয়ম বা অরাজকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলেও সেটিকে বিতর্কিত করে মানুষের কাছে খারাপভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। এ ধরনের অপপ্রচার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে না।

জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার বন্ধের নির্ধারিত সময়ের পরও একজন ব্যক্তি বোরকা পরে ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি পুরুষ বলে শনাক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনৈতিক ও নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করলেও ইসলামের মূলনীতি হলো ন্যায়নীতি অনুসরণ করা এবং সরল পথে চলা। কিন্তু জামায়াত সবসময় বাঁকা পথে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, একটা ভালো নির্বাচন, একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন—শেষ হওয়ার আগে আপনারা কয়েকটি বিতর্কিত কথা বললেন। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।

বক্তব্যে রিজভী বিএনপির প্রয়াত নেতা আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি সালাউদ্দিন আহমেদের অবিচল আস্থা ছিল। দলের দুর্দিনে তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার পর সালাউদ্দিন আহমেদ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগও করেন রিজভী। তার দাবি, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান থেকে ২৯৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের আশ্বাস নিয়ে ফিরছেন। জাপানের বিনিয়োগ ও বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। শুধু জাপানি বিনিয়োগের মাধ্যমেই দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা আলহাজ নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক শিরিন সুলতানা এমপি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং তানভীর আহমেদ রবিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ৩০, ২০২৬)