শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন। এবার ৪৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেনি কোন শিক্ষার্থী। যা অতীতের দিক থেকে রেকর্ড গড়েছে।

আজ শনিবার সকালে শিক্ষাবোর্ডে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব নূর মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি জানান, পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, ৪৯টি কলেজের ২৯০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা ৪৯টি কলেজের মধ্যে ১৬টি থেকে মাত্র একজন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া ১২টি কলেজ থেকে দুজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেননি। তিন থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে অংশ নেওয়া এমন কলেজের সংখ্যা ১৮টি।

তুলনামূলক বড় তিনটি কলেজ থেকেও ২৪ থেকে ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এসব কলেজেরও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নীলফামারীতে, ১২টি। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রামে ৯টি করে, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে ৬টি করে, রংপুরে ৩টি এবং পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় ২টি করে কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ জানান, বছর মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৫৯ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯১ জন এবং উত্তীর্ণ হয় ৬০ হাজার ৮৮২ জন।

ফলাফলে ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। ২০২৬ সালে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত বছর ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৬ সালে মোট ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ২৬০ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৩০৭ জন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও অবনতি লক্ষ করা গেছে। ২০২৬ সালে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন কলেজের সংখ্যা ৪৯টি, যা গত বছর ছিল ৪৩টি। শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১১টি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৭৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০২১ ও ২০২০ সালে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৪৩ ও ১০০ শতাংশ।

(এসএস/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)