রহিম আব্দুর রহিম : আজ শনিবার দিনব্যাপী রংপুর বিভাগীয় পাঠক সম্মেলনের দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আসর গত বছর ২০২৫ সালে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার বাড়িতে। এবার রংপুর  জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই বিশাল সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ বির্নিমানে পাঠ্যোভাস এবং পাঠক সৃষ্টির গুরুত্ব সামনে রেখে সম্মেলনের আয়োজন করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী সদরপুর পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত বজলুর রহমান গ্রন্থাগার। 

কবি ও গবেষক আদিল ফকিরের সভাপতিত্বে তিন পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যথাক্রমে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃআশরাফুল ইসলাম, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ, বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক, গবেষক, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি, নজরুল ইনস্টিটিউটের জীবন সদস্য মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উপস্থাপনায় ছিলেন রংপুর বিভাগের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ইরশাদ জামিল ও সফুরা খাতুন সম্মেলনে শুধু রংপুর বিভাগের ৮টি জেলারই নয়, সারাদেশের ১৪৯টি পাঠাগার সংগঠক, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লেখক, পাঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যসেবী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ প্রায় ৬ শতাধিক গুণি-মানুষ উপস্থিত হোন। ফলে সম্মেলনটি সাহিত্যসেবীদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। আলোচনা, সম্মাননা, বইয়ের মোড়ক উম্মোচন,সাহিত্য আড্ডা, ফটোসেশন, চা-চক্রে সাজানো অনুষ্ঠানটি ছিলো সমৃদ্ধ ও পরিপাটি।

এই বিষয়ে সম্মেলনে আসা রংপুরের বুজরুক তাজপুর আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসেছেন দশম ও নবম শ্রেণি'র ২৫জন শিক্ষার্থী। তাদের একজন দশম শ্রেণি'র সুমন ইসলাম, সে বলে, "অনেক সুন্দর, অপূর্ব অনুষ্ঠান। আমি এই বলে গর্বিত যে, দেশের শত শত কবি সাহিত্যিকে কাজ থেকে দেখতে পেলাম।"

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রাম থেকে এসেছেন ৮০ উর্দ্বো বয়স্ক কবি খন্দকার মাহফুজার রহমান, হাতে তাঁর লেখা কবিতার বই 'ঝংকার'। তিনি যাকে পছন্দ করছেন, তাঁকেই বিনামূল্যে দিচ্ছেন বই। জিজ্ঞেস করলাম ফ্রি কেনো দিচ্ছেন? বললেন, "শেষ বয়স, মানুষ তো তাঁর কর্মের মাঝে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকতে চায়, তাই আমার কর্মশৈলী আপনাদের মাঝে দিয়ে গেলাম।"

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি আসিম পাটুলি ফাযিল মাদ্রাসার বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া জুয়েল। তাঁর জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন 'আলোকিত পাঠাগার।'

এই পাঠাগারের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি প্রথম বছরের সম্মেলনেও এসেছিলেন, এবারও এসেছেন। তিনি বলেন, "প্রথম বছরের সম্মেলেন এবং এই বছরের সম্মেলনের মধ্যে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কোন তফাৎ নেই। আছে স্থানগত এবং ঐতিহাসিক পার্থক্য। এ ধরণের সম্মেলনে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।"

নোয়াখালির সুবর্ণচরের 'চরজব্বর মেধা বিকাশ পাঠাগারে'র উদ্যোক্তা, সাধারণ সম্পাদক ও পূর্বচরভাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "এটা শুধু রংপুর বিভাগীয় পাঠক সম্মেলনই নয়, এই সম্মেলন সারাদেশের পাঠক,পাঠাগার সংগঠক ও সাহিত্য পিপাসুদের এক মহামিলন মেলা।"

অবসর প্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা, অংকনশিল্পী,ছড়াকার ও বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের গীতিকার আতাউর মালেক বলেন, "পাঠক সম্মেলনের আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়ে খাঁটো করতে চাই না,অবক্ষয়িত এই সমাজ ব্যবস্থায় পাঠক সৃষ্টির এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়।"

এটিএন বাংলার রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি, কবি ও ছড়াকার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, "নতুন বিষয়, চমৎকার আয়োজন।"

সম্মেলন উপলক্ষ্যে বদরুন নাহার সম্পাদিত 'ঝিনুক' নামের স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে, লালমনিরহাট ঝিনুক সাহিত্য পরিষদ। গ্রন্থে প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া, ছোট গল্প, সায়েন্স ফিকশন, পুষ্টিকথা, বই আলোচনা, পাঠাগার পরিচিত ও ভ্রমণ কাহিনী বিষয়ক মোট ১শ ৮৭ জন লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে।সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যস্ত অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ছিলো জীবন্ত এবং প্রাণান্ত।

(আরএআর/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)