সাফেও হামজাই শেষ ভরসা বাংলাদেশের
স্পোর্টস ডেস্ক : আর মাত্র তিন দিন পরই ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। তবে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাগতিকরা। চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত সাফে খেলতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচ থমাস ডুলিকে।
রোনানের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর দলের বর্তমান অবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেন, ‘রোনানের ইনজুরিটা বাদ দিলে যেসব খেলোয়াড় চোটে ছিল, তারা ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। এটা ইতিবাচক। টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। এটা ভালো দিক।’
এবারের সাফ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবাবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের দল। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের সাফে সেমিফাইনাল খেলা দলটির এবার লক্ষ্য আরও দূর এগিয়ে যাওয়া।
২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মামুন বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগে একটি দলের যে পরিবেশ থাকা উচিত, ২০০৩ সালে আমি সেটা দেখেছি। যেকোনো চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যেই এমন পরিবেশ থাকে। আমার মনে হয়, ২০২৩ সালের দলটিও শিরোপা জেতার মতো ছিল। কুয়েতের বিপক্ষে ১১৭ মিনিটে গোল হজম করেছিলাম। ওই গোল না হলে আমরা ফাইনাল খেলতাম। তবে সেটা এখন অতীত। এই স্কোয়াডের খেলোয়াড়েরাই এবার দেশের মাটিতে খেলছে।’
রোনানের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের আক্রমণভাগের জন্য বড় ক্ষতি। এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে তার পানেনকা শটে শিরোপা নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। এবার সিনিয়র দলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকলেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সেই সুযোগ আপাতত শেষ।
রোনানকে নিয়ে কোচ ডুলির পরিকল্পনা ছিল মূলত দলের দীর্ঘদিনের ‘নাম্বার নাইন’ সংকট কাটানো। ইংল্যান্ডপ্রবাসী মোহাম্মদ মাহে খানও রয়েছেন সেই পরিকল্পনায়। তবে রোনান ছিটকে যাওয়ায় আক্রমণভাগে বিকল্প খুঁজতে হবে কোচকে।
হামজা চৌধুরীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন করলে মামুনের বক্তব্য, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে হামজার ওপর দায়িত্ব থাকবেই। তবে তাকে কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে অন্য খেলোয়াড়দেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
মামুন বলেন, ‘হামজার ওপর অবশ্যই চাপ থাকবে। সে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাকে কীভাবে ব্যবহার করে সেরাটা পাওয়া যায়, সেটাই আমাদের পরিকল্পনা। তবে ফুটবল একজনের খেলা নয়, ১১ জনের খেলা। ফরোয়ার্ড লাইনের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভালো কিছু করা সম্ভব।’
বাংলাদেশের আরেকটি পুরোনো দুর্বলতা ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম করা। তবে এই দল গোল খাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে মনে করেন মামুন। তার মতে, প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণে জবাব দেওয়াও দলের অন্যতম শক্তি।
আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বড় মঞ্চে খেলতে গিয়ে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, সেটি উপলব্ধি করেছেন খেলোয়াড়েরা। মামুন বলেন, ‘আসিয়ান কাপ আমাদের একটা ধাক্কা দিয়েছে, একটা বার্তা দিয়েছে, আমাদের নিজেদের মতো করে খেলতে হবে। ওই টুর্নামেন্টের আগে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। খেলোয়াড়েরা তিন মাস মাঠের বাইরে ছিল। ফুটবল এত সহজ নয়। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলো প্রস্তুতি নিয়ে আসে। তবে এখন আমরা প্রস্তুত। আপনারা শুধু আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
দলের নাম্বার নাইন বা নির্দিষ্ট স্ট্রাইকারের কাছ থেকেই গোল আসতে হবে, এমনটা মনে করেন না মামুন। তার বিশ্বাস, যেকোনো পজিশনের খেলোয়াড় গোল করতে পারেন। দলের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হবে। জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকি ইতাফুসার সামর্থ্য নিয়েও আশাবাদী তিনি। মামুনের মতে, সুকি ইতিমধ্যে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে কোচিং স্টাফ সন্তুষ্ট কি না, এমন প্রশ্নে মামুনের উত্তর, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের এই স্কোয়াড নিয়ে খুশি।’
আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার এই ফুটবল আসর। স্বাগতিক বাংলাদেশ গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর শেষ চারের লড়াইয়ের পর ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
(ওএস/এএস/নভেম্বর ০২, ২০২৬)
