নগরকান্দা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের জয়পুর সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ প্রহরব্যাপী অখণ্ড শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন।

পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে সোমবার (২ নভেম্বর)। এদিন ভোগরাগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়।

অনুষ্ঠানে মহানাম সংকীর্তনের পাশাপাশি শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তনের মাধ্যমে ভগবানের প্রেম, ভক্তি, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও মানবকল্যাণের বাণী তুলে ধরা হয়। এতে ভক্তরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম, আত্মনিবেদন ও ভক্তিরস উপভোগ করেন।

হিন্দুধর্মীয় দর্শনে শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম শিক্ষা হলো—নিষ্কামভাবে নিজের কর্তব্য পালন, সকল জীবের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন এবং সুখ-দুঃখে সমভাব বজায় রাখা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ কর্মের ফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে কর্তব্য পালনের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বাণীতে সত্য, ন্যায়, ধর্ম, আত্মসংযম, অহিংসা ও ভক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের দর্শন অনুযায়ী, অহংকার, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে প্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ও পরোপকারের চর্চার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহানাম সংকীর্তন ও লীলা কীর্তনের মধ্য দিয়েও এসব আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।

অষ্টকালীন লীলা কীর্তনে দিন ও রাতের আটটি পর্যায়ে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের নিত্যলীলার বিভিন্ন দিক বর্ণনা করা হয়। অন্যদিকে, মহানাম সংকীর্তনকে ভক্তরা আত্মশুদ্ধি, ঈশ্বরস্মরণ ও মানসিক প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।

আয়োজক কমিটির সদস্য রিপন বিশ্বাস, সত্য বিশ্বাস, রংশ্বের বিশ্বাস, অশিত মন্ডল ও দুর্লভ বিশ্বাস জানান, ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কীর্তন চলাকালে ভক্তদের জন্য সার্বক্ষণিক প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি ভক্তদের স্বেচ্ছায় দান গ্রহণের ব্যবস্থাও ছিল।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, জয়পুর সার্বজনীন মন্দিরের এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রেম, ভক্তি, মানবিকতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মাঝে।

(পিবি/এসপি/নভেম্বর ০২, ২০২৬)