স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, অভিবাসন মানে কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা। বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন, ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক ককাসের উদ্বোধন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

অনুষ্ঠানে সংসদীয় ককাসের সভাপতি এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং ককাস সচিবালয়ের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন সংসদীয় ককাসের মহাসচিব মাহমুদা হাবিবা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে আমাদের সচেতন হতে হবে। নারী শ্রমিকদের অভিবাসন গন্তব্যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয়। আমাদের প্রচলিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিমালা বাস্তবায়নের সঙ্গে অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী পাঠাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। শ্রমিক প্রেরণে অব্যবস্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্মের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাস কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে। এই সর্বদলীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ-সদস্যরা বিদেশে কর্মী প্রেরণে সহায়তা এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করবেন।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসী শ্রমিকরা অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘমেয়াদে নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিকুর রহমান, উইটনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিপা হাফিজা, আইএলও এর জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার শাহরিন মুনির এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ দিপ্তা রক্ষিত প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।

প্যানেল আলোচকরা প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, মনোসামাজিক ও আর্থসামাজিক সুরক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, মানবপাচার বন্ধে সরকারের অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ককাসের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, সংসদ-সদস্যরা, অভিবাসন বিশ্লেষক ও আলোচকরা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৫, ২০২৬)